মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর

মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
ছবি সংগৃহীত।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করেন।

এর আগে ৪ অক্টোবর একই মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। এক দিনের রিমান্ড শেষে সেদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২ অক্টোবর বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।

গ্রেফতারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান।

এজাহারে বলা হয়েছে, ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।




মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

মানবপাচার প্রতিরোধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাকসুদা মাকসুদি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ডিজিটাল এনআরএম প্ল্যাটফর্ম এবং মানব পাচারের শিকার ভিকটিমদের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানব পাচার প্রতিরোধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, সরকার মানব পাচারের শিকার ভিকটিমদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জাতীয় রেফারেল মেকানিজম এবং মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে। এ সংক্রান্ত এনজিও কার্যক্রম ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নামে সাইবার স্পেস ও বিভিন্ন ভুয়া অনলাইন জব অফারের মাধ্যমে সংঘটিত জালিয়াতি ও মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান।

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট মাকসুদা মাকসুদি বাংলাদেশে মানব পাচার প্রতিরোধে ২০০৮ সাল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং আসন্ন ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উইনরকের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রজেক্ট ডিরেক্টর দীপ্তা রক্ষিত ও নাসিরউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ইঞ্জিন সংকটে ব্যাহত রেলের পণ্য পরিবহন, কেনা হচ্ছে ৮০ লোকোমোটিভ

ইঞ্জিন সংকটে ব্যাহত রেলের পণ্য পরিবহন, কেনা হচ্ছে ৮০ লোকোমোটিভ
ছবি সংগৃহীত।

দেশের প্রধান ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে মিটারগেজ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকাগামী নিয়মিত কনটেইনার ট্রেনসহ বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্যবাহী মালবাহী ট্রেনের চলাচল কিছুটা কমেছে। এ সংকট কাটিয়ে মালবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত রেলের বহরে নতুন লোকোমোটিভ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য নেওয়া প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া, আগে অনুমোদিত আরও ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এই ৬০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ সম্পন্ন হলে কনটেইনার, জ্বালানি ও খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। এতে রেলের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের ‘গ্রিন রেলওয়ে’ প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে রেলের বহরে ৮০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের 'রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি'র দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার। এতে কমিটির সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং মুহাম্মদ আজীজুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অগ্রগতি প্রতিবেদনে মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহন সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়, মোংলা বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের চাহিদা বর্তমানে বেশ সীমিত। বর্তমানে মোংলা বন্দর থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ এবং জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে মোলাসেস পরিবহন করা হচ্ছে, যা ছাড়া মোংলা থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের বড় চাহিদা রেলওয়ের কাছে নেই। যাত্রীবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ৯৫/৯৬ নম্বর ট্রেনটি মোংলা-বেনাপোল রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। তবে মোংলা-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নতুন ব্রডগেজ কোচ আসার ওপর নির্ভর করছে। শীঘ্রই বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮টি কোচ দেশে এসে পৌঁছেছে। এসব ব্রডগেজ কোচ পুরোপুরি হাতে পাওয়ার পর মোংলা-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনলাইন রেল টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈঠকে গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'সহজ ডটকম'। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং নতুন ভেন্ডর নিয়োগের লক্ষ্যে নতুন দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও অপারেটিং রেশিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত ও ইজারাকৃত জমি, ইজারা থেকে অর্জিত আয়, ইজারা গ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধ দখলকৃত জমি ও দখলদারদের তালিকার পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত মামলার সার্বিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়। রেলওয়ের জমি ও বিভিন্ন স্থাপনায় সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের সুযোগ নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে সংসদীয় কমিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে ধীরে ধীরে লোকসান থেকে বের করে একটি লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের তাগিদ দেওয়া হয়। আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনে রেলওয়ের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করা এবং আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয় কমিটি। এছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার্থে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত নতুন রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল থেকে খুলনা রুটে প্রতিদিন সকালে কমিউটার ট্রেন চালু করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উক্ত বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর
ছবি সংগৃহীত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতেও পিছপা হবে না বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ যে মন্তব্য করেছেন তা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দিনভর সমালোচনা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সমালোচনা করে বিবৃতিও দেয়া হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন আইজিপি। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে শব্দটি উল্লেখ করেননি ।  

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সোমবার সকালে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-এর বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনাম সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী কিংবা আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের প্রচলিত আইন বিশেষ করে আত্মরক্ষার অধিকার, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এ পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, আইজিপি তার বক্তব্যে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে শব্দটি উল্লেখ করেননি।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রকৃত অর্থে তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোন মন্তব্য করতে চাননি, এটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।