মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া দলিল লামায় ৫ একর পাহাড়ি ভূমি গ্রাসের চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া দলিল লামায় ৫ একর পাহাড়ি ভূমি গ্রাসের চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ

মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া দলিল লামায় ৫ একর পাহাড়ি ভূমি গ্রাসের চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ২৮৬নং ফাসিয়াখালী মৌজায় মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও দখলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস এর বিরুদ্ধে।

​উপজেলার ফাসিয়াখালী মৌজার হোল্ডিং নং- R/৪৬ এর অন্তর্ভুক্ত ৫.০০ (পাঁচ) একর পৈতৃক ও বন্দোবস্তীয় ভূমি রক্ষার্থে এবং ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বান্দরবান জেলার বিজ্ঞ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আদালতে (মামলা নং - ৭/২০২৬) মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইসমাইল।

​প্রাপ্ত আদালতের আরজি ও মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মামলার বাদী মো: ইসমাইল (পিতা- মৃত আব্দুল কাদের, সাং- লোহা রাস্তা, ৩১৪নং সুয়ালক মৌজা, বান্দরবান সদর) ১৯৮২-৮৩ সালের ৫২৬৬ নং বন্দোবস্ত মামলা মূলে এবং পরবর্তী খরিদা সূত্রে ৫ একর ২য় ও ৩য় শ্রেণীর পাহাড়ি ভূমির বৈধ মালিক হিসেবে সরকারি তৌজি ও জমাবন্দিভুক্ত হয়ে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। (যার উত্তরে আঃ রশিদ ও বিচ্ছিন্নার ছড়া, দক্ষিণে বুড়ার কার্ড, পূর্বে পাহাড় এবং পশ্চিমে কুমারী ছড়া অবস্থিত)।

​অভিযোগে চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস (পিতা- আমির হোসেন, সাং- ফাসিয়াখালী, ভেন্ডি বাজার, থানা- চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার) ও তার সহযোগীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, চক্রটি উক্ত মৌজার R/৮২২ নং হোল্ডিংয়ের মালিক মৃত মনিরুজ্জামানের ৩.১০ একর ভূমি মনিরুজ্জামানের মৃত্যুর (২৮/১০/১৯৯৮ খ্রি.) পর ভুয়া ও মিথ্যা রেজিস্ট্রি দলিল সৃষ্টি করে অবৈধভাবে নামজারি করায়।চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ফাসিয়াখালী মৌজার R/২৩৮ নং হোল্ডিংয়ের ৩.৫০ একর এবং R/৮০২ নং হোল্ডিংয়ের ৩.৫২ একর ভূমির চৌহদ্দি ও জমাবন্দি পরিবর্তন করে। এই জালিয়াতির ধারাবাহিকতায় গত ২৪/০৪/২০২৩ইং তারিখে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ ইসমাইলের বৈধ ভোগদখলীয় R/৪৬ নং হোল্ডিংয়ের ৫ একর জমি জবরদখল করে এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

ইসমাইল বলেন,​পার্বত্য অঞ্চলের শান্তপ্রিয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভূমি এভাবে সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ও মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজ বানিয়ে গ্রাস করা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতি ও দখলের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তিনি।

বিবাদী মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান,ইসমাইল আমাকে অযথা হয়রানি করছে তার দাবিকৃত জায়গা অন্যত্র। তাহার অভিযোগের প্রত্যেক টা রিপোর্ট আমার পক্ষে দিয়েছে, আমি আমার জায়গায় শান্তিপূর্ণ বসবাস করছি।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”