মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, আওয়ামী লীগের আরও ৩ নেতার যাবজ্জীবন
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন

মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, আওয়ামী লীগের আরও ৩ নেতার যাবজ্জীবন

মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, আওয়ামী লীগের আরও ৩ নেতার যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মত‍্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনাল আসামি মো. মাহবুবউল আলম হানিফকে তার বিরুদ্ধে ১ নং চার্জের ১-৬ নং কাউন্টে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে এবং ২ ও ৩ নং চার্জে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

অপর আসামি সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী ও আতাউর রহমান আতাকে তাদের বিরুদ্ধে গঠিত ১নং চার্জের ১-৬ নং কাউন্টে এ দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ ও ৩নং চার্জে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। তারাও আওয়ামী লীগের কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

আসামি মাহবুবউল আলম হানিফ, সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী ও আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে গঠিত ৪ ও ৫নং অভিযোগ একসঙ্গে বিবেচনাক্রমে সব আসামিকে দোষী সাব্যস্তক্রমে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অন‍্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি পাল্টা-যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহামদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ।

পরে প্রসিকিউটর তামিম বলেছিলেন, হানিফসহ চার জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা শেষ হয়েছিল। কিন্তু আমরা কিছু অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আমরা চার আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছি।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হানিফ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের অংশ হিসেবে সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে অধীনস্তদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে সবকিছু বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি সিভিলিয়ান লিডার ছিলেন। এ কারণে অধীনস্তদের নির্দেশ বা টেলিফোনে কথোপকথন করে এসব বাস্তবায়ন করেছেন।

তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকেও একই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অতএব একই অবস্থানে থেকে মাহবুবউল আলম হানিফকেও ট্রাইব্যুনাল একই শাস্তি দেবেন বলে আমরা আশা করছি।

আসামিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সব ধরনের সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেছেন হানিফ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যেক বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন করেছেন। একইসঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথন করে কুষ্টিয়ার এসপি, জেলা-উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। টেলিফোনের সেসব কথোপকথন আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি।

মামলায় হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার জনই বর্তমানে পলাতক।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে প্রসিকিউশন থেকে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর তা আমলে নেওয়া হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।




ট্রাকচালক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

ট্রাকচালক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু
ছবি সংগৃহীত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন। ২৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় তার মা রীনা বেগম ওই বছরের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন হোসেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান কারাগারে রয়েছেন। ১০ জন জামিনে আছেন। বাকি ২০ জন পলাতক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনার পাশাপাশি রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার নথি অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ৮ অক্টোবর মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও কারাগারে থাকা দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের শুনানি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ওই দিন হাজির করতে পারেনি। পরে আদালত ২৬ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। 




সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ
ছবি সংগৃহীত।

সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ আদেশ পাওয়া অন্যান্যরা হলেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সায়লা ফারজানা, মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।

এর আগে, দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা মোজাম্মিল হোসেন এসব আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের নামে ১১ টি হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা এবং ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড, সায়লা ফারজানার ৫টি হিসাবে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা, শাহীনের নামে ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং টুম্পার নামে ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণপূর্বক অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে আছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এই অর্থ তারা উত্তোলনের করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। বর্ণিত সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। এমতাবস্থায়, তাদের এসব ব্যাংক হিসাবগুলো ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা একান্ত প্রয়োজন।




শাপলা চত্বরে গণহত্যা: হাসিনা-বেনজীর-আজিজসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

শাপলা চত্বরে গণহত্যা: হাসিনা-বেনজীর-আজিজসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ের শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। এতে প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামি হলেন— জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা। তারা আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যরা হলেন— তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

এর আগে, ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাদের স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও হদিস মেলেনি জানিয়ে প্রসিকিউশনের কাছে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্টে (এনইআর) দাখিল করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ না করায় ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে, পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ মামলায় দুইটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।