বোয়ালখালীতে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

বোয়ালখালীতে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

বোয়ালখালীতে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
ছবি সংগৃহীত।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর চরখিজিরপুর ইউনিয়নে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় এ বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

প্রবীণ বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন জালাল মাঝির সভাপতিত্বে এবং চরখিজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ নেতা নুর মোহাম্মদ কন্ট্রাক্টর।

সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও দেশের উন্নয়নে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এম কপিল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আরেফিন রিয়াদ, আমিরাত ফুজিরা বিএনপির সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— আবদুস সবুর মাঝি, আনোয়ার আলম, মীর হোসেন মেম্বার, যুবদল নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন হিরু এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিমানুল ইসলামসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ।

আলোচনা সভা শেষে মাওলানা আবসার উদ্দিনের পরিচালনায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়েছে।




ফটিকছড়িতে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামীর কারাদণ্ড

ফটিকছড়িতে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামীর কারাদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় ওমায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক সায়মা আফরীন হীমা এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সি/আর মামলা নম্বর ৭১০/২০২৫ (ফটিকছড়ি)-এর বাদী তানজিন তারিন প্রিয়া ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তাঁর স্বামী ওমায়ের আহমদের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ওমায়ের আহমদ ফটিকছড়ি পৌরসভার পানারখিল এলাকার বাসিন্দা হাফেজ তোফায়েল আহমদের ছেলে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই ওমায়ের আহমদ যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ওমায়ের আহমদকে ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, “এ রায় যৌতুকের দাবিতে নারীর প্রতি নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”




চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স সল্ট কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মাহমুদুল হক (৪০) নামের আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত মাহমুদুল হক পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরনখাইন এলাকার মৃত খায়ের আহমদের ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই বছরের এক কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খালেদ বলেন, কারখানায় বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে বার্ন ইউনিটে এনে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এর আগে, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দগ্ধ শ্রমিক দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫)। এরপর গত ১৯ জুলাই বিকেল ৩টায় মারা যান নুর নবী হৃদয় (২৫) এবং একই দিন রাত সাড়ে ১০টায় মারা যান উজ্জ্বল দাশ (৫৩)।

উল্লেখ্য, বোয়ালখালীর ওই লবণ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছিলেন।




চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ জুলাই) রাতে নগরীর হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আফতাব মজুমদার এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সবুজ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলায় আফতাব মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথিসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় আফতাবের। একপর্যায়ে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার সুইট প্যালেস নামে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আফতাব। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের তাগিদ দিলে আফতাব তা অস্বীকার করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আফতাব আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।