বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে। 
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।

‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে আজ এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন আছে, আর ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। তবে, হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে।

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময় না দিলে তারা আদালতের সুবিধা নিতে পারে। এ জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা উত্তর দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ করেছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। সরকার তার অবস্থানে ঠিক আছে। জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে এক বিন্দু পিছপা হব না।

এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  

জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।




দেশে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

দেশে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুর মধ্যে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রথমে দেশব্যাপী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিভাগীয় সিভিল সার্জনদের পাঠানো হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জনে। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

ডা. ইউনূস আলী আরও বলেন, ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রমের তথ্য যুক্ত হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিএনএইচের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে খুলনা বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ৯৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।




চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ৯, জুনে রোগী বেড়েছে চারগুণ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ৯, জুনে রোগী বেড়েছে চারগুণ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাসগুলোর তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৯ জনসহ চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২২ জন, যা এ বছরের সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। মে মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন এবং জানুয়ারিতে ৬৮ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখনও পুরোপুরি বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি। শিগগিরই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জ্বর, শরীরব্যথা, বমি ও খাবারে অরুচির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যাচ্ছে না। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহির দাবি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।




২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে আজ

২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে আজ
ছবি সংগৃহীত।

দেশজুড়ে আজ রোববার (২৮ জুন) একযোগে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এবারের ক্যাম্পেইনে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সেখানে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় সংগৃহীত মোট ৪ লাখ নীল রঙের এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ক্যাপসুল এরই মধ্যে দেশব্যাপী বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বয়স ও ক্যাপসুলের ধরন

  • ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: তাদেরকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
  • ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: তাদেরকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
    যদি আজ কোনো শিশু বাদ পড়ে?

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ কোনো শিশু যদি বিশেষ কারণে বাদ পড়ে, তবে পরদিন (২৯ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চারদিনও এই ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম চলবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

  • তীব্র বা জটিল অসুস্থতা ছাড়া সব শিশুই এই ক্যাপসুল খেতে পারবে।
  • ভরা পেটে খাওয়ানো: শিশুকে কোনো অবস্থাতেই খালি পেটে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
  • জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার দিতে হবে।