বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা
ছবি সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের চালান কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন ভয়াবহ মাত্রায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারের উচ্চমূল্য এবং ফসলের ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর এর প্রভাব সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে।

কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও ওই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারণ আমরা ফসল রোপণের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বীজ বপনের মৌসুম পেরিয়ে গেছে। এফএওর এই প্রধান বলেন, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো এমন সব ফসল চাষের দিকে ঝুঁকতে পারে; যা বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে। অর্থাৎ তারা গম ও ভুট্টা চাষ থেকে সয়াবিন চাষের দিকে সরে যেতে পারে।

‌‌‘‘অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকে পড়তে পারেন।’’

তোরিও বলেন, গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হবে এবং আমরা আশা করছি যে আগামী বছর পণ্যমূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, আমরা উচ্চ পণ্যমূল্য এবং উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করছি। কারণ আমরা যে খাবার গ্রহণ করি তা কেবল কাঁচামাল নয়... এর সঙ্গে জ্বালানির দামও জড়িত।

সতর্ক করে দিয়ে এফএওর এই প্রধান বলেন, আমরা বারবার বলছি, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ঘড়ির কাঁটা যত ঘুরছে এবং দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, পরিস্থিতির তত অবনতি ঘটছে।

সূত্র: আল জাজিরা।




ভারতের জেন-জিও কি সরকার উৎখাতের পথে

ভারতের জেন-জিও কি সরকার উৎখাতের পথে
ছবি সংগৃহীত।

চার বছরে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের সরকারকে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করেছে তরুণ সমাজ জেন-জি। ২০২২ সালে কলম্বো, ২০২৪ সালে ঢাকা এবং ২০২৫ সালে কাঠমান্ডু; এই ধারাবাহিকতায় এবার উত্তপ্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি। একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি নামে পরিচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন গত এক সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে টেনে এনেছে। এ ধরনের বিক্ষোভকে কেবল ‘তরুণদের আন্দোলন’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। দক্ষিণ এশিয়ায় সরকার পতনের পেছনে মূলত চারটি প্রধান পরিস্থিতি কাজ করেছে। বর্তমান ভারতের বাস্তবতায় যার তিনটি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান-

১. শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিচ্ছিন্নতা

প্রথম শর্ত হলো উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের বিস্তার। ভারতে প্রতি বছর ৫০ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হলেও কাজের সুযোগ পান মাত্র ২৮ লাখ। ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকার ভারতীয়দের মধ্যে গ্র্যাজুয়েটদের হার ২০১৭ সালের ৪৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৬৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি গত মে মাসের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে, যা ২২.৭ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছিল। গত পাঁচ বছরে ভারতের ১৬টি রাজ্যে ৪৮টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় দেড় কোটি চাকরিপ্রার্থীর ওপর। ২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আইন পাস হলেও ২০২৬ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। একটি সাধারণ পরিবারের জন্য এই পরীক্ষাগুলোই পেশাগত জীবনে প্রবেশের একমাত্র মই, কিন্তু সেই প্রশ্নপত্র বারবার আগেই কারো কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

২. বৈষম্যের দৃশ্যমানতা

দ্বিতীয় শর্ত হলো বৈষম্য যা এখন খালি চোখে ও মোবাইলের স্ক্রিনে স্পষ্ট। একজন তরুণ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হওয়ার খবর পড়ছে, তখনই স্ক্রিনের পরের স্ক্রলে দেখতে পায় কোনও রাজনীতিকের ছেলের স্কি ট্রিপের ছবি কিংবা কোনও শিল্পপতির মেয়ের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঘোষণা। নেপালের বিক্ষোভকারীরা এদের ‘নেপো কিডস’ বা স্বজনপ্রীতির সন্তান বলে ডাকত, যা শুধু একটি বিদ্রূপ নয়; বরং বৈষম্যের পরিমাপ।

৩. প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাহীনতা

তৃতীয় শর্ত হলো প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া। যখন অভিযোগ কোনও কাজে আসে না, আদালতে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হয়, প্রতিনিধিরা ভোটারদের উপেক্ষা করে এবং নির্বাচন কিছুই পরিবর্তন করে না, তখন রাজপথই হয়ে দাঁড়ায় একমাত্র উপায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট পাঁচ দিনের মধ্যে ব্লক করা হয়েছে। দিল্লিতে তাদের অবস্থান ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং সোমবার সংসদে তাদের পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নির্দেশ অমান্য করে পদযাত্রা করা হলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয় এবং পুলিশের লাঠিচার্জে বহু অংশগ্রহণকারী আহত হন।

৪. ক্ষোভ ও অপমান:

চতুর্থ শর্ত হলো রাষ্ট্র তার ব্যর্থতার পর যখন মানুষকে অপমান করে। নেপাল ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পাঁচ দিনের মধ্যে সরকার হারায়। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরির কোটা নিয়ে আদালতের এক রায় এবং অপমানজনক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। ভারতের আন্দোলন শুরু হয়েছে একটি নির্দিষ্ট অপমানজনক শব্দ থেকে।

শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে নেতারা ছোট কোনও বিষয়ে ছাড় দিতে পারতেন, কিন্তু তারা রাজপথ খালি করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ফলে ছোট দাবিগুলো আর যথেষ্ট থাকেনি এবং শেষ পর্যন্ত তা পুরো সরকার পতনের দাবিতে পরিণত হয়েছিল। সোমবার দিল্লিতেও আন্দোলনটি আর কেবল শিক্ষামন্ত্রী প্রধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

সূত্র: স্ক্রল.ইন




সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অনুমোদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে, সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে এবং আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করবে, পরামর্শ সহায়তা দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরব প্রদান করবে কয়েক হাজার কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পরেই চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে পাস হলে সেটি কার্যকর করা হবে। কংগ্রেসে চুক্তির খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামের একটি নথিও পাঠানো হবে। সেই নথিটি বিদেশি রাষ্ট্রেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই চুক্তিটি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদির পরমাণু শক্তি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে বিনিয়োগের দুয়ার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।

ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তিতে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত নেই। সৌদি আরব যদি চায়— তাহলে এই চুক্তির মধ্যে থেকেই পরমাণু বিশুদ্ধকরণ এবং খরচ হওয়া পরমাণু জ্বালানির পুণঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

এছাড়া এ চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ নীতিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ হলো এমন একটি নীতি— যার আওতায় জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময়ে যে কোনো দেশের পরমাণু প্রকল্পের কর্মসূচি পরিদর্শন করতে পারবে। যে কোনো দেশের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প চুক্তিতে অতিরিক্ত বা অ্যাডিশনাল প্রটোকলের অন্তর্ভুক্তি প্রায় অপরিহার্য।

কিন্তু ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

অর্থাৎ কংগ্রেসে এই চুক্তির খসড়া পাশ হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধ করার পথে সৌদির কোনো বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরোপ করা না হলে এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে একাধিকবার বলেছেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে।

পরমাণু বোমা তৈরির দু’টি প্রধান ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুণঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী বেশিরভাগ দেশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে




বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, দিল্লি অভিমুখে শত শত কৃষক

বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, দিল্লি অভিমুখে শত শত কৃষক
ছবি সংগৃহীত।

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন ভারতের শত শত কৃষক। পাঞ্জাব থেকে যাত্রা করা এসব কৃষককে হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেড দেওয়ার এ ঘটনা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক এবং কয়েক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্তটিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল।
এনডিটিভি জানিয়েছে, যাতায়াতের সুযোগ না পেয়ে কৃষকেরা শম্ভু সীমান্তে সমাবেশ করেন। এ সময় তারা দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের জন্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারকেই অভিযুক্ত করেন।

বিকেইউ শহীদ ভগৎ সিংয়ের নেতা তেজভীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। পাঞ্জাব সরকার এই পদক্ষেপ প্রতিহত না করে ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের কনভয়গুলো থামিয়ে দেওয়া হলেও আম্বালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ হরিয়ানার কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত মহাসমাবেশে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানাতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের কৃষক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে।

কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটি (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, শম্ভু সীমান্তে থামার আগে কেএমএসসি, কিষাণ মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব অধ্যায়), আজাদ কিষাণ মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংগ্রামের বহরগুলো রাজধানী অভিমুখে রওনা দেয়।

পান্ধের বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি একটি প্রচলিত বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি। এটি কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব অধিকার এবং সেবা খাতের মতো বিষয়ে আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।

কৃষক নেতারা বলছেন, পূর্ববর্তী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের মতো খাতে কম শুল্ক এবং বিধিনিষেধ শিথিলের মাধ্যমে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধবাজারে আরও গভীর প্রবেশাধিকারের জন্য ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারা বলছেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ভারতীয় কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। তারা আলোচনাকে ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

সংগঠনগুলো বলেছে, ভারতের শুধু দুগ্ধ খাতই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার উৎস। এ খাতে যেকোনো বিরূপ প্রভাব সমগ্র গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। এতে দুগ্ধ উৎপাদনকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

দেশ বাঁচাও মোর্চা প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসংক্রান্ত সব নথি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে।