বান্দরবানে ২৫০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে ২৫০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান

বান্দরবানে ২৫০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম এক ঝটিকা সফরে বান্দরবানে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি বান্দরবান জেলা শহরের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বন্যার্তদের হাতে মানবিক সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় ২৫০ জন বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা একটি জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেন এবং অসুস্থদের বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম বলেন, “বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সারাদেশে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে নিয়মিত জরুরি ত্রাণ সহায়তা, শুকনো খাবার ও পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণ করে আসছে। সাম্প্রতিক বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় ইউনিটগুলোর মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।”
এ সময় বিডিআরসিএসের বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির, বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ডা. সহিদুর রহমান, ফারুক উদ্দিন ভূঁইয়া, রফিকুল ইসলাম শিকদার, জামিল আহমেদ ও কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বান্দরবান ইউনিটের ইউনিট অফিসার আসাদুল হায়দার চৌধুরী এবং বান্দরবান যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরাও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন।
দিনব্যাপী সফরের শুরুতে চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম বান্দরবান জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ইউনিটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন। পরে তিনি বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের রেইচা লম্বারাস্তার মাথায় নির্মাণাধীন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”