বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বিষু বরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বিষু বরণ

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বিষু বরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উৎসব বিজু ও বিষু বরণ করে নিয়েছেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশেষ করে নারীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে এ আয়োজনে অংশ নেন।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে বালাঘাটা ঘাট এলাকায় সাঙ্গু নদীর তীরে হাজারো চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষের মুখর উপস্থিতিতে উৎসবটি উদযাপিত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই ফুল সংগ্রহ করে কলাপাতায় সাজিয়ে নদীতীরে জড়ো হন তারা। পরে নদীতে ফুল ভাসিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে অতীতের ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নতুন বছরের সুখ-শান্তি কামনা করেন।

উৎসব সংশ্লিষ্টরা জানান, ১২ এপ্রিল নদীতে পূজা ও ফুল নিবেদনের মাধ্যমে বিজু উৎসবের সূচনা হয়। ১৩ এপ্রিল পালিত হয় মূল বিজু, এদিন ঘরে ঘরে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিমন্ত্রণ ছাড়াই একে অপরের বাড়িতে যাওয়ার রীতি থাকলেও আধুনিক সময়ে আনুষ্ঠানিক দাওয়াতের প্রচলনও বেড়েছে।

১৪ এপ্রিল তরুণ-তরুণীরা গুরুজনদের গোসল করিয়ে তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। একই দিনে ভিক্ষু-সংঘকে ‘ফাং’ (নিমন্ত্রণ) জানিয়ে ঘরের মঙ্গল কামনায় মঙ্গল সূত্র পাঠ শোনা হয়। চাকমা সম্প্রদায়ের খাবারের প্রধান আকর্ষণ ‘পাচন’ যা শতাধিক প্রকার সবজি, মাছ ও শুঁটকি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ তরকারি।

চাকমা সম্প্রদায়ের মনিকা চাকমা বলেন, প্রতি বছরের মতো মা গঙ্গাদেবীর কাছে অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় ফুল বিজু পালন করা হয়।
সুমিতা চাকমা জানান, ভোর থেকে ফুল সংগ্রহ করে নদীতে এসে জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর পূজার উদ্দেশ্যে সবাই একত্রিত হন। অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে শান্তিময় জীবনের প্রার্থনা করা হয়।

পূজারী সেমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, যুগ যুগ ধরে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ সাঙ্গু নদীতে ফুল বিজু ও ফুল বিষু পালন করে আসছে। আজকে মা গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করবো সারাবিশ্বের হানাহানি বন্ধ হয়ে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান জানান, বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়িদের উৎসবকে ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের সূচনা হয় জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাকে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”