বান্দরবানে পিজিসিবির সাবস্টেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: দায় এড়াতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে পিজিসিবির সাবস্টেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: দায় এড়াতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ

বান্দরবানে পিজিসিবির সাবস্টেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: দায় এড়াতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ
ছবি : দৈনিক সাঙ্গু

বান্দরবানের বালাঘাটায় বাস্তবায়নাধীন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর “পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প”-এর আওতাধীন ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অপরিষ্কার বালু ও পাথর দিয়ে ঢালাই, বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণকাজ চালানো এবং তথ্য গোপনের মতো নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিসিসিই-ইটার্ন-ফেপেক কনসোর্টিয়াম। প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীনের এক্সিম ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার ও পিজিসিবি। এমবিএল কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ মাস।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের টুকরো ও বালুর মধ্যে অতিরিক্ত ধুলাবালি, ময়লা এবং কাদামাটির মিশ্রণ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রীর প্রায় ২০ শতাংশের বেশি অংশে ধুলাবালি ও মাটি মিশ্রিত রয়েছে। অথচ ঢালাইয়ের আগে সেগুলো পরিষ্কার না করেই সরাসরি মিক্সচার মেশিনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নির্মাণসাইটে বালু ও পাথর সংরক্ষণের সঠিক কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনার মধ্যেই নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়নি কোনো চালনি বা পরিশোধন পদ্ধতিও। এতে প্রকল্পের নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলে উপঠিকাদার সুমিত চৌধুরী প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলেন, “বান্দরবানে তো ঘরে ঘরে সাংবাদিক।” পরে প্রকল্পের অনিয়ম ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরে পিজিসিবির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল কবিরের কাছে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের তথ্য দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ সময় তথ্য দিতে সক্ষম এমন দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর চাওয়া হলেও তিনি অসহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “ফোন নম্বর দিতে নিষেধ করা হয়েছে।” তবে পরক্ষণেই আবার বলেন, “আসলে আমি নিজেই ফোন নম্বর দিতে চাইছি না।”

একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর নিম্নমান ও চালনি ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি বড় প্রকল্প। এখানে চালনি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।”

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়িত্বরত প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

তবে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে পরদিন আবারও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই কলাম ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁкихুঁকির কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি সাইট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সবকিছু ঠিক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন।”




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”