বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, জনমনে ক্ষোভ

বান্দরবানে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার দায়ে এক ব্যক্তিকে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পরিবেশ ধ্বংসের মতো গুরুতর অপরাধে এই নগণ্য জরিমানার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ব্রিগেড এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা ছাত্রাবাসের পেছনে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে যৌথ অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরটি সরিয়ে নেয়। পরে জায়গার মালিক কমলময় তঞ্চঙ্গ্যাকে (৪০) আটক করা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত–২০১০) অনুযায়ী পাহাড় কাটার অপরাধে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়।
অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর উদ্দিন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মো. আরমান ভূঁইয়া।
এদিকে, নামমাত্র জরিমানার খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, এই দণ্ডের ফলে পাহাড় খেকোরা আরও উৎসাহিত হবে। অভিযোগ রয়েছে, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা ছাড়াও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গিপাড়া, নিউ গুলশান ও বনরূপা এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় সড়ক নির্মাণ ও বসতি স্থাপনের নামে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিবেশ আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
জরিমানার অঙ্ক নিয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে। জরিমানার পরিমাণ কেন কম হয়েছে, সে বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভালো বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মো. আরমান ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।









