বান্দরবানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

বান্দরবানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ৩৬ বীর রুমা জোন। পাহাড়ি দুর্গম পাড়াগুলোতে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় পাড়াবাসীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ব্যক্তিদের এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।


গত ৩ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৬ মার্চ পর্যন্ত রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মোট ৬৫ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর প্রাথমিক সেবা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


সোমবার (১৬ মার্চ) রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ মেহেদী সরকার, এসবিপি, পিএসসি। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রীসম্বলিত মেডিকেল ব্যাগ, সনদপত্র (সার্টিফিকেট) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক হ্যান্ডবুক বিতরণ করেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের উপ-অধিনায়ক মোঃ মাহফুজ আলম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আল হাসান, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা, রেমাইক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বম, গালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের নির্বাহী পরিচালক উঃ নাইন্দিয়া থেরঃ, রুমা থানার পুলিশের প্রতিনিধি আসাদ, হেডম্যান লাল লিয়ান সম সাইলুকসহ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


গালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো বলেন,“রুমা জোনের এই উদ্যোগ আমাদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে অনেক মানুষের উপকার করতে পারবে।


অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের নির্বাহী পরিচালক উঃ নাইন্দিয়া থেরঃ বলেন, “পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য জোন কমান্ডারের এই উদ্যোগ একটি মহৎ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।


স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।


৩৬বীরের জোন কমান্ডার মোঃ মেহেদী সরকার বলেন, রুমা উপজেলার এই প্রথম কমিউনিটি নার্সিং ট্রেনিং  ও হেলথ নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৩৬বীর রুমা জোনের কর্তৃক এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা চাই এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাগুলোতে রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা পাই। এ চিন্তাকে ধারণ করে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।


তিনি আরো বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে দুর্গম এলাকাগুলোতে মজবুত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আমরা এ ধারাবাহিকতায় অব্যাহত রাখব।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”