বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৫০টি দোকান ও বসতঘর

বান্দরবানের বাঘমারা বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫০টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ বাজারে আগুন দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে বিষয়টি জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাজারের দোকান ও বসতঘরসহ ৫০টি স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘমারা বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট ও স্থাপনা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি। ফলে আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকান ও বসতঘরের ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন। তাদের অভিযোগ—ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাবলু মহুরী, মিদু রাখাইনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গভীর রাতে আগুন লেগেছে। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা তারা কেউ জানেন না। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। সবকিছু হারিয়ে তারা এখন চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছিল বাঘমারা বাজারটি। এ নিয়ে চারবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলো।
এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, "খবর পেয়ে আমাদের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় যাতায়াতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ পরে জানা যাবে।"









