বান্দরবানের ঘুমধুমে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বার্মিজ গরুর হাট: গরুর সাথে মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার চালান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা ও ইয়াবা ব্যবসার গডফাদার সৈয়দুল বশরের নেতৃত্বে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসানো হয়েছে অবৈধ বার্মিজ গরুর হাট। প্রশাসনের কোনো বাধা না থাকা ও রহস্যজনক নীরব ভূমিকার কারণে মিয়ানমার থেকে হাজার হাজার গরু অবৈধভাবে এপারে এনে এই হাট বসানো হয়েছে। এই গরুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে কয়েক দফা ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছে। প্রশাসনের বাধা ছাড়া মিয়ানমার থেকে গরুর পাশাপাশি আসছে ইয়াবাসহ মাদকের চালান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয়রা।
জানা যায়, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও ইয়াবা কারবারের গডফাদার সৈয়দুল বশরের নেতৃত্বে ঘুমধুম প্রবেশপথে টিভি টাওয়ার এলাকায় বসানো হয় বিশাল বার্মিজ গরুর বাজার। এই বাজার থেকে ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে অবৈধ বার্মিজ গরুর চালানকে বৈধতা দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে সারা দেশে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মূলত গরু ব্যবসার আড়ালে চালানো হয় ক্যাশ মেমো বিক্রি ও ইয়াবা কারবার। গরুর চালানের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে ইয়াবার বিশাল বিশাল চালান। প্রতি বছর গরুর হাটের মাধ্যমে যুবলীগ নেতা সৈয়দুল বশরের আয় ৫০ কোটি টাকারও ওপরে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম, কোরবান আলী ও আহমদ নবী জানিয়েছেন, যুবলীগ নেতা সৈয়দুল বশর বিগত বেশ কয়েক বছর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে অস্থায়ী গরুর বাজার ইজারা নিয়ে এই ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা কারবার চালিয়ে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গরুর হাটের আড়ালে ইয়াবা পাচারসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ তার এই গরুর হাট ইজারা চুক্তি বাতিল করে। পুনরায় গরুর বাজার ইজারা চুক্তি পেতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও নাগরিক পরিষদ নেতার মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকার বিনিময়ে লবিং চালিয়ে ব্যর্থ হয় যুবলীগ নেতা সৈয়দুল বশর। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে গরুর হাট বসানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা। তারা আরও জানান, গরুর বাজারের পাশেই রয়েছে পুলিশ ক্যাম্প এবং তার একটু পরেই বিজিবির চেকপোস্ট। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে অদৃশ্য কারণে নীরব রয়েছে তারা। তাছাড়া এই কারবারের গডফাদার সৈয়দুল বশর নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ঘুমধুম ইউনিয়নের সভাপতি। বিগত ১৭ বছর তার নেতৃত্বে চালানো হয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর বর্বর নির্যাতন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনের ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেলেও সৈয়দুল বশর এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সৈয়দুল বশর এই প্রতিবেদককে জানান, "আমিসহ স্থানীয় আরও তিনজন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে গরুর বাজার লিজ পেতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমার আগের লিজ চুক্তি ও নতুন আবেদন বাতিল করে। যেহেতু আমার আবেদন বাতিল করেছে, তাই অন্য দুই পক্ষকে যেন গরুর বাজার লিজ না দেওয়া হয় সেজন্য আমি বিভিন্ন মাধ্যমে লবিং চালিয়েছি। এতে আমি ৭৬ লাখ টাকা খরচ করেছি এবং আমি সফল হয়েছি।"
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সর্দার জানান, গরুর বাজারটি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। গরুর হাট না বসানোর কথা ছিল। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে কী করা যায় দেখছি। বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, "ঘুমধুমে অবৈধভাবে বার্মিজ গরুর বাজার বসানোর খবর পেয়েছি। আমি বিষয়টা দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছি।"
উল্লেখ্য, গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার থেকে গরু ও ইয়াবার চালান পাচার করতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন (স্থল মাইন) বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই স্থানীয় তিনজন নিহত হন। বিভিন্ন সময় সীমান্ত পথে গরু ও ইয়াবার চালান পাচার করতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে প্রচুর স্থানীয় নাগরিক হতাহত হয়েছেন।









