বাইশারীর আজিজ খলিফার মৃত্যু: সংখ্যালঘু কাপড় ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্...
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

বাইশারীর আজিজ খলিফার মৃত্যু: সংখ্যালঘু কাপড় ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা

বাইশারীর আজিজ খলিফার মৃত্যু: সংখ্যালঘু কাপড় ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের বাইশারী বাজারের প্রতিষ্ঠিত কাপড় ব্যবসায়ী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো হত্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্টের মন্তব্য ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে এই মামলায় তাঁকে আসামি করার জন্য একটি মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে সংখ্যালঘু এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী উদয়ন ধর শনিবার সকাল থেকে নিজের কাপড়ের দোকানটি বন্ধ করে এলাকাছাড়া হয়েছেন। ঈদের এই ভরা মৌসুমে বেচাকেনা বন্ধ থাকায় তিনি বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জানা গেছে, আজিজ খলিফা পেশায় একজন দর্জি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা ধরনের কাজ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি উদয়ন ধরের কাপড়ের দোকানের সামনে সেলাইয়ের কাজ করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর দুই স্ত্রী রয়েছে এবং তিনি ব্যাংকঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও জানা যায়। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হন। পরে রেললাইনে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২৩ মে শনিবার তিনি মারা যান। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, আবদুল আজিজ স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি; তাঁকে উদয়ন ধরের মাধ্যমে বা তাঁর যোগসাজশে মেরে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, উদয়ন ধর দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অত্যন্ত সততা ও সুনামের সাথে বাইশারী বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করছেন। তিনি কখনো কাউকে খুন করতে পারেন না, কোনো প্রতারণাও করতে পারেন না। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র ধরের ছেলে। উদয়ন ধর সংখ্যালঘু হওয়ায় তাঁকে ফাঁসিয়ে ফায়দা লুটার জন্য একটি কুচক্রী মহল এই ষড়যন্ত্র করছে।

যেভাবে আহত হন আজিজ খলিফা: 

ঈদগাঁও এলাকার সাংবাদিক আবু বক্কর গত বুধবার 'ভয়েস ঈদগাঁও' নামের একটি ফেসবুক পেজে লেখেন, রেললাইন পরিদর্শনকারী গ্যাংকারের ধাক্কায় এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রেললাইন পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গ্যাংকারটি কক্সবাজার থেকে ঈদগাঁও ইসলামাবাদ রেল স্টেশনের দিকে আসছিল। এ সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্যাংকারের চালক ব্রেক চেপে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। এতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে গ্যাংকারে থাকা রেল কর্তৃপক্ষ আহত ব্যক্তিকে ঈদগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে ক্যাম্প কমান্ডার বিষয়টি অবগত হলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাঁকে ঈদগাঁও মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

আহত ব্যক্তির নাম আজিজ বলে জানা গেছে। তিনি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলী আকবরের ছেলে।

এ বিষয়ে ইসলামাবাদ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান চৌধুরী জানান, “রামু ও ইসলামাবাদ রেল স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে এক ব্যক্তি রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। গ্যাংকারের চালক তাঁকে দেখতে পেয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে আহত ব্যক্তিকে গ্যাংকারযোগে ইসলামাবাদ রেলস্টেশনে আনা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে উপরোক্ত তথ্যের হুবহু মিল খুঁজে পান। এদিকে আহত আজিজ খলিফা শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে মারা যান।

এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে একদল সাংবাদিক বাইশারীসহ বেশ কয়েকটি স্পটে যান এবং অনুসন্ধান চালান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ৪০ বছর ধরে উদয়ন ধর এখানে কাপড়ের ব্যবসা করছেন। আর আজিজ খলিফা উদয়নের কাপড়ের দোকানের সামনে সেলাইয়ের কাজ করতেন। আজিজ খলিফা দীর্ঘদিন বাইশারীতে আছেন। প্রথমে দর্জি ব্যবসা করলেও পরে মেকানিক হন, তারপর ডেকোরেশনের দোকান দেন। সর্বশেষ আবারো দর্জি পেশায় ফিরে আসেন। এরই মধ্যে তিনি বেবী নামের এক নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, নিহত আজিজ খলিফা উদয়নের অগোচরে জনৈক রশিদের সাথে নিয়মিত মোবাইল জুয়া বা ক্যাসিনো খেলতেন। তবে এ নিয়ে নিহত আজিজ খলিফা আর কাপড় ব্যবসায়ী উদয়ন ধরের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ দেখেননি স্থানীয়রা; বরং তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল।

তবে আবদুল আজিজ আহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে অনেকে প্রচার করছেন যে, আজিজ খলিফা ব্যবসায়ী উদয়ন ধরের কাছে টাকা পাওনা ছিলেন। কেউ বলছেন ১ লাখ টাকা, আবার কেউ বলছেন ৬ লাখ টাকা। কিন্তু আজিজ খলিফার দ্বিতীয় স্ত্রী বেবী সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর স্বামী উদয়নের কাছে টাকা পেতেন—এ কথা সত্যি হলেও তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে উদয়ন ধর এই প্রতিবেদককে হলফ করে বলেন, "আজিজ খলিফা আমার কাছে কোনো টাকা পেতেন না। বরং খলিফার বিপদে-আপদে আমিই তাকে নানাভাবে সহায়তা করতাম।"

বাইশারী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল করিম বান্টু বলেন, "উদয়ন ধর একজন সাদা মনের মানুষ। আজিজ খলিফা কখনো বলেননি যে উদয়ন ধরের কাছে তাঁর টাকা পাওনা আছে। এমনকি অন্য কারও কাছ থেকেও আমি এমন কথা শুনিনি। উদয়ন এমন মানুষ নন।"同じ বক্তব্য দেন বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল। তিনি বলেন, "বিষয়টি বোঝা মুশকিল। কারণ উদয়ন কখনো খারাপ চরিত্রের মানুষ ছিলেন না।"

স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল হামিদ বলেন, "উদয়ন ধর একজন খুবই ভালো মানুষ। তাঁকে ৪০ বছর ধরে দেখে আসছি। তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেননি, করতেও পারেন না। আজিজ খলিফার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আমি সন্দিহান।"

বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "দুর্ঘটনা ঘটেছে ঈদগাঁওতে, আর ভিকটিমের বাড়ি বাইশারীতে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক।"




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”