বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের সঙ্গে একমত হন।

বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতে কানাডা সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (Technical and Vocational Education and Training-TVET) খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডার আগ্রহের কথা জানানো হয়। বর্তমানে এ খাতে কানাডার কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (International Maize and Wheat Improvement Center-CIMMYT)-এর মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথাও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে আলোচনা হয়।

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে কানাডার আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই। তিনি তাদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কানাডার পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিংসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চায়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। জবাবে সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার নাসের আল কাহতানি বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌদি সরকারের কাছে সব সময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম-১৭-এর সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে কথা হয়। কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গেও এ সময় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি এ ধরনের হামলার নিন্দা জানান এবং সৌদি আরবের পাশে থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবস্থান তুলে ধরেন। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তার বিষয়েও তিনি সৌদি প্রতিনিধিকে অবহিত করেন।

এ ছাড়া ওই হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সৌদি সরকারের চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সৌদি প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সৌদি আরবের সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধি বিনিময় এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা প্রদান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং অফশোর ও অনশোর গ্যাস আহরণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা, বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা এবং নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও থেকে এলএনজি সরবরাহ এবং সরবরাহের উৎস ও রুট বৈচিত্র্যকরণের বিষয়টিও উঠে আসে। উভয় পক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

দিনের তৃতীয় বৈঠকে এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানায় এসিডব্লিউএ পাওয়ার।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পরিবার, সমাজ ও অনলাইনে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

পরিবার, সমাজ ও অনলাইনে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ছবি সংগৃহীত।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ ও অনলাইন- সব ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিকল্প নেই।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস, ২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুবিয়ে রোধে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবৈতনিক শিক্ষা, উপবৃত্তি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন যাচাই এবং কন্যাশিশুর উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছে সরকার।

তাজমিন হত্যার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি। সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কুমিল্লার মেয়েটা তিন দিন বাসায় নেই, অভিভাবকদের মধ্যে কোনও উদ্বেগ দেখা যায়নি।

দেশের নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যখন স্কুলের পাশে মায়েরা পেপার বিছিয়ে বসে থাকে সন্তানকে বাসায় নিতে, তখনই বুঝা যায়, সমাজ কতটা অনিরাপদ।




লামার ডিএফওর বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও বন উজাড়ের অভিযোগ

লামার ডিএফওর বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও বন উজাড়ের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে কাঠ পাচারে সহায়তা, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন, ইটভাটা ও চেকস্টেশন থেকে মাসোহারা এবং বনায়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও বন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। এসব অভিযোগের পরও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ । বান্দরবান থেকে শামসুল ইসলাম আকাশের রিপোর্টে বিস্তারিত। 
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার রনি পারভেজকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি লামা বন আদালতের এফসিসিও, বমুবিলছড়ি বিট, বিশেষ টহল দল, লামা রেঞ্জ ও লামামুখ চেকস্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। একই ব্যক্তির হাতে এতগুলো দায়িত্ব দেওয়ায় নজরদারি দুর্বল হয়ে কাঠ পাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। আরও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল মালেক নামে এক রেঞ্জারকে লামা সদর রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব লেনদেনের সমর্থনে নথি দেওয়া হয়নি।
ইটভাটার মালিকদের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের আওতাধীন কাঠ পোড়ানো ৪০টি ইটভাটা থেকে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসে ১০ হাজার টাকা করে ডিএফওর নামে নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে ভাটার লাকড়ি জব্দ ও বারবার অভিযান চালানো হয় বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, বেকারিতে জ্বালানি কাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়েও মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ফার্নিচার পরিবহনের অনুমোদনের নামে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বনায়ন প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বন-সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, ৮০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ হেক্টরে। অবশিষ্ট ৫০ হেক্টরের বরাদ্দ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আউটসোর্সিংয়ের ছয় কর্মচারীকে সরকারি কাজের পরিবর্তে ডিএফওর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রত্যেক কর্মচারীর মাসিক সরকারি বেতন-ভাতা প্রায় ১৮ হাজার টাকা।
বাঁশ কাটা ও পরিবহনেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বর্ষায় বাঁশ কাটা ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঘুষের বিনিময়ে পরিবহন পাশ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বাঁশে ডিএফওর নামে পাঁচ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের বাঁশ মহাল বন্ধ থাকলেও রাতে ভুয়া টিপিতে বাঁশ পরিবহনের দাবি করেছেন তাঁরা। তবে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার আদেশ ও টিপির কপি পাওয়া যায়নি।
ইয়াংছা মৌজার ৫০ নম্বর এফএল জোতের অনুমোদনও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ওই জোতে দুই হাজার ৪২২টি সেগুন ও ২৩৮টি গামারীসহ মোট দুই হাজার ৬৬০টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। সেগুনের প্রায় ১৮ হাজার এবং গামারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ ঘনফুট কাঠের সাইজলিস্ট অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮৮টি গাছের বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার ঘনফুট কাঠ পরিবহনে ৪৮টি টিপি নেওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ও পরিবহনের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাঠ পরিবহনে প্রতি ঘনফুটে ডিএফওর নামে ৪০ টাকা আদায় করা হয়। সদর রেঞ্জের টিপি শাখায় প্রায় ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালনকারী মো. সেলিম প্রতিটি টিপির বিপরীতে ডিএফওর জন্য ১০ হাজার টাকা নেন বলেও তাঁদের দাবি। মাসে আড়াই শতাধিক টিপি অনুমোদনের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি শাখায় বেসরকারি ব্যক্তির দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ও রনি পারভেজ অর্থ আদায়ে মধ্যস্থতা করেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ। আলতাফের বিরুদ্ধে ফাইতং সড়ক দিয়ে মাসিক চুক্তিতে কাঠ পাচারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরবরাহ করা বিবরণ অনুযায়ী, ডিএফওর নম্বরে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। সিএফ মিহির কুমার দে গাড়িতে থাকার কথা জানান; নেটওয়ার্ক সমস্যায় কথোপকথন শেষ হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি। জোত ও টিপির রেকর্ড, বনায়নের বরাদ্দ-ব্যয় এবং পদায়নের আদেশ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বন-সংশ্লিষ্টরা।