বাঁশখালীর সরলে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর উপর হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মেম্বার আবারও তৎপর, এলাকায় ক্ষোভ, উত্তেজনা!

বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা একডজনেও বেশি মামলার আসামি সেলিম মেম্বার আবারও তৎপর। ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার সমর্থকদের উপর হামলা এবং গুলি বর্ষণে নেতৃত্বদানকারী সরল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ সেলিম এক ডজনেরও বেশি মামলার আসামি হয়ে সম্প্রতি জামিনে বের হন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা ও গোপন তৎপরতায় লিপ্ত হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছেনা।
জানা গেছে, সেলিম মেম্বার ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সাবেক আলোচিত আওয়ামী এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের অত্যান্ত বিশ্বস্ত ক্যাডার। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাকে সরল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান করা হয়। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের এমপি মোস্তাফিজ ও তার চাচা চেয়ারম্যান রশিদ পালিয়ে গেলেও সেলিম মেম্বার ফিরে আসেন। নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে সে সম্প্রতি জামিনে বের হন।
সুত্র জানায়, সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে এসে আবারও তৎপর এই আওয়ামী লীগের ক্যাডার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাধিক মামলার আসামি সেলিম মেম্বার সরল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ ভাগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই একাধিক গোপন বৈঠকের পাশাপাশি নানা স্থানে দৌড়ঝাঁপ করতেও দেখা গেছে তাকে। সরকারি দলের একটি অংশের সাথে আতাত করে সেলিম মেম্বারকে এই পদে বসানোর পায়তারা হচ্ছে বলেও এলাকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাঁশখালীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও চার বারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণকারী এই আওয়ামী লীগ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কখনো মেনে নেবেনা স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা জানান, সেলিম মেম্বার এখনো কিভাবে এলাকায় বিচরণ ও গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করে তা আমাদের বোধগম্য নয়। সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছেনা। সে এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনকে সংঘটিত করছে।
সংসদে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিল পাস হলেও ফ্যাসিস্টের দোসর মোহাম্মদ সেলিম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রকাশ্যে কিভাবে ঘুরাফেরা করে। ৫টি মামলার আসামী জামিনের ৩ দিনের মাথায় সরল বাজারে তার ইন্ধনে বিবি আমেনার সন্তানকে হত্যার নির্দেশ দেয়।ছেলেটি এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তেছে। এই ফ্যাসিস্টের দোসর মোহাম্মদ সেলিম কিভাবে কার ইন্ধনে আবারও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবী করে। ৩০২ ধারা মামলার আসামী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেনো গ্রেফতার করা হচ্ছেনা এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।
এদিকে সেলিম মেম্বার সরল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ ভাগিয়ে নিতে অপচেষ্টা এবং লবিং তদবির ও দৌড়ঝাঁপ করার খবরে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে সেলিম মেম্বারকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।






