বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে তথ্য অফিসের "প্র...
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে তথ্য অফিসের "প্রেস ব্রিফিং"

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে তথ্য অফিসের "প্রেস ব্রিফিং"
ছবি সংগৃহীত।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং এর সুফল তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনের অগ্রগতি তুলে ধরে, জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল—বিশেষ করে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচির দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটছে। এসব বিষয় তুলে ধরে বান্দরবানের লামা তথ্য অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বুধবার (১৩ মে) এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহার কেবল একটি নথি নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়নের একটি দর্শন। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকা উদ্যোগগুলো হলো: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য ও সার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ; কৃষিঋণ মওকুফের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি প্রদান; পরিবেশ সংরক্ষণ, খাল খনন, পুনঃখনন এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান; এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ কর্মজীবী ও সাধারণ নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

১৮০ দিনের বিশেষ প্রচার কর্মসূচি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশজুড়ে ৬৮টি তথ্য অফিসের মাধ্যমে "সবার আগে বাংলাদেশ" মূলনীতির আলোকে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা হয় এই প্রেস ব্রিফিংয়ে।

লামা-আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেক্ষাপট
পার্বত্য এই অঞ্চলের ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অঞ্চলের কৃষকদের আধুনিকায়নে কৃষক কার্ড বিতরণ এবং দুর্গম এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন ও বনায়ন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনসম্পৃক্ততা ও আগামীর ভাবনা
তথ্য অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কর্মসূচি জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছানোর ফলে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। নৈতিকতা উন্নয়নবিষয়ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ সমাজকেও এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এই উন্নয়নচিত্র বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়, যাতে সরকারের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনের সুফল প্রতিটি ঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সহকারী তথ্য অফিসার মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও মানবজমিন প্রতিনিধি মো. তৈয়ব আলী, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সাঙ্গু প্রতিনিধি বেলাল আহমদ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নূর মোহাম্মদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম, সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি চৌধুরী মো. সুজন, হিল গ্র্যাজুয়েট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল করিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আদহাম বিন ইব্রাহিম, আমার দেশ প্রতিনিধি নূরুল করিম আরমান, গিরিদর্পণ প্রতিনিধি এস. কে. খগেশ প্রতি ও জাগরণ নিউজের নজরুল ইসলামসহ কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”