বন্যায় কেড়ে নিল ৩ পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

সম্প্রতি চকরিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা ও টানা ভারী বর্ষণে বহু বাড়িঘর, মৎস্য প্রকল্প, সবজি ক্ষেত ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রাণহানির পাশাপাশি অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থলও। এমনই তিনটি পরিবারের করুণ চিত্র উঠে এসেছে কাকারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার দিনমজুর মিজানুর রহমান বন্যায় হারিয়েছেন তার শেষ সম্বল ঘরটি। তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বর্তমানে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। টানা বৃষ্টি ও বন্যার সময় কোমরসমান পানিতে ডুবে ছিল তার বসতঘর। পানি নেমে গেলেও ঘরটি আর টেকেনি।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। দিনে এনে দিনে খাই। বন্যা আমাদের মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকার আবু সাঈদ মাটির তৈরি ঘর অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়ে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের পাকা ঘর পাহাড়ধসে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত। আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী জসিম পেশায় টমটম চালক।
জসিম উদ্দিন বলেন, মাত্র সাত-আট মাস আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। পাহাড়ধসে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্থানীয়ভাবে কিছু ত্রাণ সহায়তা পেলেও স্থায়ী আবাসনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। ফলে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিছু পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







