ফারুক কোচিং হোমের এক যুগ পূর্তি: হাতের লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

ফারুক কোচিং হোমের এক যুগ পূর্তি: হাতের লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ

ফারুক কোচিং হোমের এক যুগ পূর্তি: হাতের লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে শিক্ষাক্ষেত্রে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘ফারুক কোচিং হোম’-এর এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হাতের লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা জানাতে এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার আমীর ও বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট এস. এম. আব্দুচ ছালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ এবং আল ফারুক ইনস্টিটিউট, বান্দরবানের অধ্যক্ষ আমিন উল্লাহ।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে মানব জীবনে সুশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে সুন্দর হাতের লেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, একটি শিক্ষিত, সচেতন ও দক্ষ প্রজন্ম গঠনে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘ফারুক কোচিং হোম’ একটি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যে এলাকায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে এবং বান্দরবানের শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় কোচিং হোমের স্বত্বাধিকারী ও বিশিষ্ট লেখক গোলাম ফারুক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এক যুগের এই পথচলায় আমরা শুধু পাঠদানই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করে আসছি। সুন্দর হাতের লেখা একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও মননশীলতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে যাবো।” তিনি অভিভাবকদের সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে উহ্লাসওয়ে মারমা, জুনায়া হক জাহিন এবং কামরুল হাসান। ৭ম শ্রেণিতে প্রথম তিন স্থান অর্জন করেন মোঃ আবদুল্লাহ আল সাবির, মোঃ ইয়াছিন সিকদার এবং মোঃ আবির হোসেন অনিক।
৮ম শ্রেণিতে সাদিয়া কাওসার নাওয়াল, শাহজাহান তুহিন এবং এ জামিলা আক্তার লিজা কৃতিত্বের সাথে স্থান অর্জন করেন। ৯ম শ্রেণিতে এ মাহমুদা আক্তার তারিন, এ মোঃ আবিদ হোসেন অভি এবং এ নূর হুরাইন জান্নাত ইসপা বিজয়ী হন।
১০ম শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে ইসমান জামান আরশ, শাকিবুল ইসলাম মাহিন এবং আসিফ আফিফা হান্নান।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দকে মূল্যবান সময় দিয়ে অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকরা।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”