ফটিকছড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: হাত-মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: হাত-মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট

ফটিকছড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: হাত-মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে দরজার তালা ভেঙে সশস্ত্র ডাকাতদল ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ঘোগিনাঘাটা এলাকার নুরুল আলম ফোরম্যান বাড়িতে প্রবাসী খোরশেদুল আলমের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্য জুবায়দুল ইসলাম বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাতদল হাতুড়ি দিয়ে ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে। এরপর পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে জিম্মি করে ঘরে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে তারা সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, গাড়ি বিক্রির ঘরে রাখা আড়াই লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ডাকাতেরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায়। পরে বাড়ির পাশে ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া একটি মানিব্যাগ ও মুখ ঢাকার গামছা পাওয়া যায়।

পরিবারের কর্তা খোরশেদুল আলম বলেন, ‘ডাকাতেরা ঘরে ঢুকেই আমার স্ত্রী ও ছেলের বউকে মারধর শুরু করে। আমি বাধা দিলে আমাকেও মারধর করে। পরে পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে হুমকি ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মো. মুমিনুল হককে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে উত্তর মাদার্শা স্বেচ্ছাসেবক দল।

হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসিফ মিজানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে মুমিনুল হককে সংগঠনের পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, চৌধুরীহাট নার্সিং হোমে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় সাংবাদিকদের নার্সিং হোম থেকে বের হয়ে যেতে বলা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে।

এর আগে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনজেকশন দেওয়ার পর গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মুমিনের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তা দলীয় পর্যায়ে নজরে আসে।

ঘটনাটি জানার পর প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন এমপি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে মুমিনুল হককে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সাংবাদিকদের কাজে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে চৌধুরীহাট নার্সিং হোমে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা, ইনজেকশন প্রয়োগের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং মৃত সন্তান প্রসবের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

এ ছাড়া ঘটনার সময় নার্সিং হোমে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করে ফিরে গেছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসক হলেন সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসক হলেন সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম
ছবি সংগৃহীত।

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ১৩৬-এর উপধারা (১) প্রয়োগ করে বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওদের স্ব স্ব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নাম রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। এ দায়িত্ব পালনের জন্য বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন তাঁরা। তবে এ ভাতার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ভাতা বা সুবিধা পাওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নবগঠিত হওয়ায় উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসক হিসেবে ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার ফলে নতুন উপজেলা পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ তৈরি হলো।

এর মাধ্যমে নতুন উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের আওতাধীন বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও প্রশাসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পর্যালোচনার ব্যবস্থাও নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে আরও সুসংগঠিতভাবে করা সম্ভব হবে।

নতুন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের ফলে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার জনগণের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পৃথক উপজেলা কাঠামোর আওতায় আসবে।

প্রশাসক নিয়োগের ফলে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকলেন। পরবর্তী ধাপে নতুন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর, অবকাঠামো ও সেবা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম কাজ।




ফটিকছড়িতে ধুরুং খালে অবৈধ বালু উত্তোলন, ১৩ হাজার ঘনফুট জব্দ

ফটিকছড়িতে ধুরুং খালে অবৈধ বালু উত্তোলন, ১৩ হাজার ঘনফুট জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধুরুং খাল থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে মজুত রাখা ১৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চুরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব বালু জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধুরুং খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কাঞ্চুরহাট এলাকায় মজুত করে রাখার খবর পায় প্রশাসন। পরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মজুত করে রাখা ১৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। জব্দ করা বালু উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে  বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা বালু উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।