ফটিকছড়িতে কৃষি অফিসের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদায়
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে কৃষি অফিসের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদায়

ফটিকছড়িতে কৃষি অফিসের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদায়
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থল বদল হলেও সহকর্মী ও কৃষকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক থেকে যায়। এমনই স্মৃতিচারণ আর শুভকামনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে বিদায় জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের হলরুমে তাঁদের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদায়ী তিনজন হলেন সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক হাসানুজ্জামান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং কম্পিউটার অপারেটর বিটু বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন উত্তর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজিম উদ্দীন শাহিন বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষকের পাশে থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা যে সেবা দেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। ফটিকছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী কর্মকর্তারা কৃষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁদের কর্মদক্ষতা ও আচরণ মানুষের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদায়ী কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ফটিকছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে সহকর্মী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও ফটিকছড়ির মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক থেকে যাবে। কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান আকাশ, জেলা যুবদল নেতা মনসুর চৌধুরী, উদ্যোক্তা রেজাউল করিম, আব্দুল হালিম, কাজি মামুন লাভলুসহ অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়িতে মন্দিরের তালা ভেঙে গহনা-প্রণামী চুরি

ফটিকছড়িতে মন্দিরের তালা ভেঙে গহনা-প্রণামী চুরি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মন্দিরের তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কে অবস্থিত শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মন্দিরের সভাপতি পরেশ কুমার আচার্য্য ফটিকছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরের দল মন্দিরের সেবাখোলার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পূজা-অর্চনায় ব্যবহৃত কাঁসা ও পিতলের বিভিন্ন সামগ্রী, দেবীর স্বর্ণালংকার, রুপার সামগ্রী, নুপুরসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ ছাড়া মন্দিরে থাকা তিনটি দানবাক্স ভেঙে সেগুলোতে থাকা নগদ টাকাও চুরি করা হয়।

মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, চুরি যাওয়া মালামাল ও নগদ অর্থসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব খাস্তগীর বলেন, চুরির ঘটনায় মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে তছনছ ও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। এতে কয়েকটি প্রতিমারও ক্ষতি হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।




চবিতে অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

চবিতে অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সুরক্ষায় দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘অথেন্টিক ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এ সময় ফাউন্ডেশনের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁর হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছর মেয়াদি মিশন ‘গ্রীনসোল: ৫ হাজার ট্রিজ ফর আর্থ’-এর আওতায় ‘সবুজপ্রাণে সাজাই দেশ, সজীব রাখি পরিবেশ’ প্রতিপাদ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘বনায়নের জন্য অথেন্টিক ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য চবি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সদস্যদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, লব্ধ জ্ঞান, একাগ্রতা ও এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করবে।’

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৫০ থেকে ৩০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তন: ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তন: ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন তাঁরা।

এ কর্মসূচির ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে তাঁরা উপাচার্য ভবনেও তালা ঝুলিয়ে দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পর তাঁরা একজন শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য পেয়েছিলেন। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। দ্রুত অধ্যাপক সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান তাঁরা।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সোমবার তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম।

উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার সদ্য সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাঁরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চায়, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’ এবং ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্কতামূলক অবস্থানে আছে।’