ফটিকছড়িতে এবার দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকার লুট
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে এবার দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকার লুট

ফটিকছড়িতে এবার দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকার লুট
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। পাইন্দং ইউনিয়নে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও সুন্দরপুরে মন্দিরে চুরির পর এবার লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে দুর্র্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার দারগ আলী তালুকদার বাড়িতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেনের বড় ভাই এবং বিবিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাহাদুরের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে চোরেরা বাড়িতে ঢোকে। পরে ঘরের তালা ভেঙে আলমিরা থেকে প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ঘরের আসবাব ও জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখে যায় তারা।

লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সুযোগে চোরেরা ঘরে ঢুকে আলমিরার তালা ভেঙে সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্রও এলোমেলো করে রেখে গেছে।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, ‘চুরির খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর(সোমবার) রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কে অবস্থিত শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরের তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর(শুক্রবার) রাতে পাইন্দং ইউনিয়নের যুগিনীঘাটা এলাকায় নুরুল আলম ফরম্যানের বাড়ির খোরশেদুল আলমের ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় ডাকাতেরা।




ফটিকছড়িতে মন্দিরের তালা ভেঙে গহনা-প্রণামী চুরি

ফটিকছড়িতে মন্দিরের তালা ভেঙে গহনা-প্রণামী চুরি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মন্দিরের তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কে অবস্থিত শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মন্দিরের সভাপতি পরেশ কুমার আচার্য্য ফটিকছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরের দল মন্দিরের সেবাখোলার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পূজা-অর্চনায় ব্যবহৃত কাঁসা ও পিতলের বিভিন্ন সামগ্রী, দেবীর স্বর্ণালংকার, রুপার সামগ্রী, নুপুরসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ ছাড়া মন্দিরে থাকা তিনটি দানবাক্স ভেঙে সেগুলোতে থাকা নগদ টাকাও চুরি করা হয়।

মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, চুরি যাওয়া মালামাল ও নগদ অর্থসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব খাস্তগীর বলেন, চুরির ঘটনায় মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে তছনছ ও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। এতে কয়েকটি প্রতিমারও ক্ষতি হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।




ফটিকছড়িতে কৃষি অফিসের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদায়

ফটিকছড়িতে কৃষি অফিসের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদায়
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থল বদল হলেও সহকর্মী ও কৃষকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক থেকে যায়। এমনই স্মৃতিচারণ আর শুভকামনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে বিদায় জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের হলরুমে তাঁদের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদায়ী তিনজন হলেন সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক হাসানুজ্জামান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং কম্পিউটার অপারেটর বিটু বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন উত্তর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজিম উদ্দীন শাহিন বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষকের পাশে থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা যে সেবা দেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। ফটিকছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী কর্মকর্তারা কৃষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁদের কর্মদক্ষতা ও আচরণ মানুষের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদায়ী কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ফটিকছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে সহকর্মী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও ফটিকছড়ির মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক থেকে যাবে। কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান আকাশ, জেলা যুবদল নেতা মনসুর চৌধুরী, উদ্যোক্তা রেজাউল করিম, আব্দুল হালিম, কাজি মামুন লাভলুসহ অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।




চবিতে অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

চবিতে অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সুরক্ষায় দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘অথেন্টিক ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এ সময় ফাউন্ডেশনের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁর হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছর মেয়াদি মিশন ‘গ্রীনসোল: ৫ হাজার ট্রিজ ফর আর্থ’-এর আওতায় ‘সবুজপ্রাণে সাজাই দেশ, সজীব রাখি পরিবেশ’ প্রতিপাদ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘বনায়নের জন্য অথেন্টিক ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য চবি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সদস্যদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, লব্ধ জ্ঞান, একাগ্রতা ও এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করবে।’

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৫০ থেকে ৩০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।