ফটিকছড়িতে ১২৭ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব, পূজা পরিষদের কৃতজ্ঞতা
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে ১২৭ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব, পূজা পরিষদের কৃতজ্ঞতা

ফটিকছড়িতে ১২৭ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব, পূজা পরিষদের কৃতজ্ঞতা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১২৭টি পূজামণ্ডপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফটিকছড়ি কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দির (সেবাখোলা) প্রাঙ্গণে আয়োজিত দুর্গোৎসব-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা শাখা যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, সবার সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছর ফটিকছড়ির ১২৭টি পূজামণ্ডপে সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসবে অংশ নিতে পেরেছেন। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রশংসনীয় ছিল। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানান।

নেতারা আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। দুর্গোৎসবের সম্প্রীতির বার্তা সারা বছর অটুট থাকুক এবং বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ ও অসাম্প্রদায়িক আবাসভূমি হয়ে উঠুক—এটাই প্রত্যাশা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সদস্যসচিব রোটারিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী, ধনঞ্জয় দেবনাথ, অ্যাডভোকেট মিহির কুমার দে, সঞ্জয় ধর, অজিত দে সুজন, উজ্জ্বল শীল, উজ্জ্বল নাথ, মিন্টু নাথ, সুজন মজুমদার, প্রক্সি ঘোষসহ পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যান্য নেতারা।




সড়ক প্রশস্তকরণের বলি ঐতিহাসিক ‘চেগাইয়া বটগাছ’

সড়ক প্রশস্তকরণের বলি ঐতিহাসিক ‘চেগাইয়া বটগাছ’
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে রামগড়–বারইয়ারহাট সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য কাটা হচ্ছে প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো ‘চেগাইয়া বটগাছ’। স্থানীয়দের কাছে গাছটি শুধু একটি বৃক্ষ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ইতিহাস, স্মৃতি ও এলাকার পরিচিতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাছটি কাটা পড়ায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রামগড়–বারইয়ারহাট সড়কের পূর্ব সোনাই ফুলছড়ি মসজিদের সামনে অবস্থিত এই বটগাছের নামেই পরিচিতি পেয়েছে এলাকাটি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি ছিল স্থানীয়দের কাছে ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী। কিন্তু সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কারণে সেই স্মৃতিচিহ্ন এখন বিলুপ্তির পথে। গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামসুদ্দীন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আক্ষেপ করে লেখেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজন থাকলেও প্রকল্পের নকশা তৈরির সময় চাইলে গাছটি রক্ষা করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত। গাছটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলে এলাকার ঐতিহ্য যেমন রক্ষা পেত, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও জানতে পারত স্থানটির নামকরণের ইতিহাস।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্য আব্দুল মালেকও গাছটি কাটা পড়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই বটগাছকে ঘিরে এলাকার মানুষের বহু স্মৃতি ও ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। গাছটি হারিয়ে গেলে ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনও হারিয়ে যাবে।”

দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল উদ্দিন জানান, গাছটি অক্ষত রেখেই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে গাছটি না কাটলে সড়কটি সামনের মসজিদের পাশ ঘেঁষে নির্মাণ করতে হতো। এ ছাড়া গাছটির পেছনে থাকা জায়গায় মাটি ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করলে গাছটি রক্ষা করা সম্ভব হতো।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (করেরহাট রেঞ্জ) মো. মারুফ হোসেন জানান, সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর আগে সড়কের পাশে থাকা প্রায় ২ হাজার ৮০০টি গাছ চিহ্নিত করা হয়েছিল। চেগাইয়া বটগাছটিও ওই তালিকায় ছিল। গাছটির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন বিভাগকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সন্দীপ দে-র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর হয়ে ভারতে পণ্য রপ্তানির সময় কমিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বারইয়ারহাট–হেঁয়াকো–রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট থেকে ফটিকছড়ির হেঁয়াকো হয়ে খাগড়াছড়ির রামগড় পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পে বিদ্যমান ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৩৮ ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড।

সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন যেমন সময়ের দাবি, তেমনি পুরোনো বৃক্ষ ও স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেগাইয়া বটগাছটিকে বাঁচিয়ে রেখে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা সম্ভব ছিল কি না—উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে সেভাবেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতন মহল।




ভূজপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডফটিকছড়ির প্রথম স্টেডিয়াম বা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ভূজপুরে হবে: সরোয়ার আলমগীর এমপি

ভূজপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডফটিকছড়ির প্রথম স্টেডিয়াম বা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ভূজপুরে হবে: সরোয়ার আলমগীর এমপি
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুরে আন্তঃইউনিয়ন ওয়ার্ডভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে ২ নম্বর ওয়ার্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৮ নম্বর ওয়ার্ড। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় দুই দল সমতায় থাকায় টাইব্রেকারে ৮ নম্বর ওয়ার্ড জয়ী হয়।

মোহাম্মদ তারেক আজিজের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ভূজপুর খেলোয়াড় সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়েও ফলাফল অসংলগ্ন থাকায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ২ নম্বর ওয়ার্ডকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড।

খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. সরোয়ার আলমগীর। ভূজপুর খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো. তারেক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী সভায় উদ্বোধক ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ।

প্রধান বক্তা ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক ওমান প্রবাসী মোহাম্মদ এসকান্দর মির্জা। মুখ্য আলোচক ছিলেন ভূজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম পারভেজ।

সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ মর্তুজা এনামুল ইকবাল এবং কাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ মো. সরোয়ার আলমগীর বলেন, “ফটিকছড়িতে প্রথম স্টেডিয়াম বা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মিত হলে সেটি ভূজপুরেই হবে।” তিনি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তালুকদার, থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দীন বাচ্চু, থানা যুবদলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহেদুল আলম মেম্বার, মাওলানা শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহিম মেম্বার, মাওলানা নিজাম উদ্দিন, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইলিয়াস রাজু, মোহাম্মদ বখতিয়ার তালুকদার এবং ভূজপুর খেলোয়াড় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ মুন্সি।




চোরাই রাবার নিয়ে সংবাদ, সাঙ্গু প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

চোরাই রাবার নিয়ে সংবাদ, সাঙ্গু প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

চোরাই রাবার উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সাঙ্গুর ফটিকছড়ি উত্তর প্রতিনিধি ও ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি সাংবাদিক আজগর সালেহীকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ভূজপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

জিডিতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলামকে উপজেলার ২ নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ মুন্সিপাড়ার মোহাম্মদ রফিকের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে তাঁকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা বলেও উল্লেখ করা হয়।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ‘ভূজপুরে ১৫ লাখ টাকার রাবার জব্দ, কভার ভ্যানসহ আটক ৩’ শিরোনামে দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিন চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি চোরাই রাবার উদ্ধার করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জাহেদুল ইসলামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ভূজপুর থানায় চুরির মামলা করে। মামলাটির নম্বর ১৭, তারিখ ২০ অক্টোবর ২০২৬।

জিডিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহেদুল ইসলাম, রাসেলসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আজগর সালেহী।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২১ অক্টোবর রাত ১০টা ১২ মিনিট ও ১০টা ১৪ মিনিটে ০১৭৭৭-৪০৭৭৭৭ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হয়। এ সময় তাঁকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, ফোনে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁদের একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নসহ উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় গেলে আজগর সালেহীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরকারবিরোধী ফেস্টুন ও ব্যানারসংবলিত পোস্ট এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের আহ্বানসংক্রান্ত পোস্ট থাকার বিষয়টিও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাংবাদিক আজগর সালেহী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের কারণে এ ধরনের হুমকি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন সাংবাদিক, সংগঠক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, “জিডিটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জমির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

তাঁরা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাহীন পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।