পেকুয়ার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনর্বাসনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনর্বাসনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পেকুয়ার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনর্বাসনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, স্লুইসগেট সংস্কার, খাল-নদী পুনঃখনন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
তিনি বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর, বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট পরিদর্শন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পৃথক পৃথক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা মানবসেবা, দেশের সেবা ও দ্বীনের খেদমত করেন, মহান আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। সরকার ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ জরিপ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব, আদর্শ ও অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনতা’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছেন। “আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের সেবার জন্য কাজ করছি। তাই বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়িই নয়, কৃষক, মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও লবণচাষিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামায় বারবার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “বন্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পেকুয়ার সব বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে। স্লুইসগেটগুলো সংস্কার ও প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে লবণাক্ত পানি যাতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্লুইসগেটের সব ধরনের লিজ বা ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে। খাল-নদী পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করতে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করা হবে। বন্যাকবলিত মানুষের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ত্রাণ বিতরণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্ড আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় নয়। ত্রাণ যেন প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।
শিলখালী ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেন, শিলখালীবাসীর জন্য বন্যা নতুন নয়। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই বাস্তবতা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। সরকার কৃষি উৎপাদন ও চাষাবাদ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
টৈটং ইউনিয়নে তিনি বলেন, এ এলাকায় প্রায়ই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ সময় বহুল প্রতীক্ষিত ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
তিনি বলেন, ছনুয়া ও রাজাখালী—দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের যাতায়াত সহজ করা এবং দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নেও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, থানা পুলিশের সদস্য, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বেলা ৩টা থেকে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও সংস্কাবিহীণ স্লুইসগেট পরিদর্শনে যাবেন।




১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও খালের ওপর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনসাধারণের কোনো কাজে না এসে এখন উল্টো জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই মই তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।

১৭ জুলাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুতে ওঠানামার জন্য বড় একটি মই স্থাপন করেন। মুহূর্তেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় পাঁচ বছর আগে ঈদগাঁও খালের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। কিন্তু উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি আজও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন আর যাত্রীদের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত হটস্পট—হিমছড়ি, খেত ও সাঁততরা ডালা অতিক্রম করতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে যাতায়াত করেন। বিকল্প এই সেতু চালু হলে লাখো মানুষ নিরাপদ পথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঁচ বছর ধরে কোটি টাকার সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই সেতু চালু করা এখন জনগণের প্রাণের দাবি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল জানান, পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বانের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকলেও মানুষের চলাচলের প্রয়োজন থেমে নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অস্থায়ী মই বেয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? কোনো প্রাণহানির পর কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চালু করা হোক। এতে শুধু পাঁচ বছরের দুর্ভোগের অবসানই হবে না, বরং ডাকাতি-অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ঈদগাঁও-ঈদগড়সহ পাহাড়ি জনপদের লাখো মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।




কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল

কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আতাহার ইকবাল (৭৪) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

২১ জুলাই মধ্যরাত ১টার দিকে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোক জনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও একজন মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে। 
বুধবার বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। 

আতাহার ইকবাল একাধারে সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, বেতার উপস্থাপক সর্বোপরি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু। 
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আতাহার ইকবাল কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরংগ, সাগর বানী দৈনিক বাকখালীর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুর্বকোন দৈনিক নয়াবাংলা ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ দৈনিক মানবজমিন দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভুমিকায়। 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘকাল তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জড়িত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের সাথে। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সেক্রেটারি এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যান। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর দীর্ঘদিনের সভাপতি। 

শোক প্রকাশ:
সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। 
শোক বার্তায় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান কক্সবাজারের গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারালো।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান নেতৃবৃন্দ। 

মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়ার আর্জি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমীন।




টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে ব্র্যাক ব্যাংক পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে টানা সাত দিন ধরে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাংশে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি ব্যাংক ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আকবার সওদাগর ও জসিম উদ্দিন সওদাগর বলেন, টানা সাত দিন ধরে পানি জমে থাকায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল আলিম, কাশেম ও তৌহিদের নেতৃত্বে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।