পিএমখালীতে বলিখেলার নামে নগ্নতা ও বৈশাখী মেলা

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে বলিখেলার নামে জমজমাট জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় পুলিশকে টাকা দিয়ে জুয়ার আসর চালাচ্ছেন আয়োজকরা। জুয়া খেলা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা সামাজিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ভাঙছে অনেকের গোছালো সংসার।
বলিখেলার নাম দিয়ে গত দুই সপ্তাহে সদর উপজেলার শুধুমাত্র পিএমখালীতেই অর্ধডজন জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। জুয়া খেলায় সর্বস্বান্ত হয়ে অনেক পরিবারে চরম অশান্তি নেমে এসেছে। কয়েকটি জুয়া সিন্ডিকেট কৌশলে বলিখেলার নাম ব্যবহার করে জুয়ার আসরে মেতে উঠেছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বলিখেলার নামে জুয়ার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার মডেল থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধুমাত্র কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীতে গত দুই সপ্তাহে ৯ দিন জুয়ার আসর বসেছে। বিএনপি নেতা নামধারী কতিপয় লোক পুলিশের সহযোগিতায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বলিখেলার নামে জুয়ার আসর বসাচ্ছে নিয়মিত। পুলিশে অভিযোগ দেওয়ার পর বলিখেলার স্থান পরিদর্শনে গিয়ে উল্টো টাকা নিয়ে ফেরত এসেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে মডেল থানার কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
গত দুই সপ্তাহে পুলিশের সহযোগিতায় পিএমখালীতে তিনটি বলিখেলার নামে জুয়ার আসর বসেছে। এর মধ্যে তোতাকখালী কমলাঘোনায় একজন ভিলেজারের নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী বলিখেলার নামে জুয়ার আসর বসেছে। উক্ত বলিখেলার অনুমতি নিতে পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
৮ ও ৯ মে পিএমখালীর পরানিয়া পাড়ায় ফরিত্তার দোকান নামক স্থানে শুরু হয়েছে বলিখেলার নামে জমজমাট জুয়ার আসর। এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং কিছুদিন আগে মুবিন নামের এক যুবককে ওই এলাকায় হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই এমন এলাকায় কীভাবে বলিখেলা চলে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশই বা কীভাবে অনুমতি প্রদান করেছে, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় পরানিয়া পাড়ার রমজান আলী, খোরশেদ আলম, রানা, কলিম উল্লাহ, রেদোয়ান ও শাহজাহানসহ কয়েকজন কক্সবাজার মডেল থানায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অনুমতি নিয়ে এই বলিখেলার নামে জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছেন। আয়োজক কমিটিকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তির বিনিময়ে জুয়ার আসর বসানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জুয়া বোর্ডের মালিক কলাতলীর জয়নাল এবং খুরুশকুলের নবাব বলে জানা গেছে।
গ্রামপুলিশ জসিম উদ্দিন সাহেদ মডেল থানার এএসআই শাকিল আহমেদের মধ্যস্থতায় বলিখেলার অনুমতিপত্র পেয়েছেন বলে জানান। এদিকে বলিখেলার নামে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তা বন্ধের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৮ মে বিকেল পাঁচটায় পিএমখালীর পরানিয়া পাড়ার ফরিত্তার দোকান নামক স্থানে অভিযানিক দল পাঠালে, সেই দল উল্টো আয়োজক কমিটির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বলিখেলা বন্ধ না করেই ফিরে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৮ মে বিকেল পাঁচটায় এএসআই মুজিবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। কিছুক্ষণ পর কমিটির কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায় পুলিশ। এরপর পুনরায় শুরু হয় বলিখেলা ও জুয়ার আসর।
এ বিষয়ে নবাগত ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি সবেমাত্র যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে তিনি খোঁজখবর নেবেন। পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, বলিখেলার নামে জুয়ার কোনো অনুমতি পুলিশ দেয়নি। জুয়ার আসর বসালে তা বন্ধে পুলিশ বদ্ধপরিকর। সঠিক অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বৈশাখ মাসে রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফে আশঙ্কাজনক হারে বলিখেলার নামে জুয়ার আসর বসছে। এতে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক বিরোধ ও অপরাধ বাড়ছে। জুয়া খেলা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।







