পাইন্দু সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

পাইন্দু সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

পাইন্দু সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যান পাড়া এলাকায় ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০০ মিটার এইচবিবি সড়ক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম,দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে,যা জনগণের করের টাকার অপচয়ের সামিল।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণের ছাপ নেই। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ইট সলিং ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে,প্রকৌশল নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বালু ব্যবহার না করে অত্যন্ত অল্প পরিমাণ বালু দিয়ে ইট বসানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও বালুর স্তর এক ইঞ্চিরও কম এবং রাস্তার অর্ধেক অংশে বালু ব্যবহারই করা হয়নি এবং এল ড্রেনের কাজ ও নিম্নমানের করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা- বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সড়কটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। অথচ এই সড়কটি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,নির্মাণকাজ চলাকালে কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং সরকারি তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মংক্যচিং মার্মা বলেন, রাস্তার কাজ দেখে মনে হচ্ছে না এটি দীর্ঘদিন টিকবে। পাহাড়ি কাদামাটির ওপর প্রয়োজনীয় বালু ছাড়া ইট বসানো হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণের কারণে জনগণের অর্থ অপচয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক বাসিন্দা মংসিংনু মার্মা বলেন, সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সঠিক তদারকি না থাকলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ কখনোই পাবে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মংচউ মার্মা অভিযোগ করে বলেন,কাজের সময় কোনো প্রকৌশলীকে দেখা যায়নি। রাস্তার প্রস্থও অনেক কম করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত দুটি কালভার্ট না হলে বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

চান্দা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শৈহ্লাচিং মার্মা বলেন, এটি আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের কেউ এসব দেখছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্রয়সাংচিং মার্মা বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই রাস্তার একটি অংশ ভেঙে যায়। আমার দোকানের সামনে হওয়ায় নিজ খরচে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করে সেটি মেরামত করতে হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।

এ বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন,আমি এখনো সরেজমিনে পরিদর্শনে যাইনি। কাল পরশু গিয়ে কাজের মান যাচাই করব। কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দিয়ে তা পুনরায় করানো হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কেন এখনো পরিদর্শনে যাননি? এমন অবহেলা কি অনিয়মকে উৎসাহিত করছে না?

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মংক্যচিং মার্মার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা বলেন,দীর্ঘদিন পর এলাকার মানুষ এই সড়কটি পেয়েছে। কিন্তু পরিমাণ অনুযায়ী বালু দেওয়া হয়নি এবং ইট বসানোর কাজেও অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়া কাজ হওয়ায় সড়কটি কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমি নিজেও শঙ্কিত।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ,কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে যদি নিম্নমানের কাজ ও দায়িত্বহীন চলতেই থাকে,তাহলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

তারা অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকের প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”