পটিয়া পৌরসভার নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

পটিয়া পৌরসভার নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

পটিয়া পৌরসভার নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহুলী গ্রামের দীর্ঘদিনের অবহেলিত নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে পটিয়া পৌরসভার প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের বাসিন্দারা।

বুধবার (১ জুলাই) পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী জানান, তারা পৌরসভার নিয়মিত করদাতা নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। কাগজে-কলমে 'এ' গ্রেড পৌরসভার বাসিন্দা হলেও বাস্তবে তাদের জীবনযাত্রা প্রত্যন্ত ইউনিয়ন এলাকার চেয়েও দুর্বিষহ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত প্রায় দেড় দশক ধরে ওয়ার্ডটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাহুলী গ্রামের প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর প্রায় ১৫ বছর ধরে কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায় এবং কাদাময় হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক রিকশা ও সিএনজি চালক এ সড়কে চলাচলে অনীহা প্রকাশ করেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়ার্ডটিতে এখনো পরিকল্পিত ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বৃষ্টির পানি ও গৃহস্থালির ব্যবহৃত পানি দীর্ঘসময় রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির আশপাশে জমে থাকে। এতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ, মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকে, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের বর্জ্যও এ এলাকায় এনে ফেলা হয়, যা বৈষম্যমূলক আচরণ।

স্মারকলিপিতে সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ বা নিরাপদ পানির উৎস না থাকায় অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে।

এ অবস্থায় বাহুলী গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পটিয়া পৌরসভার প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পৌর প্রশাসক ফারহানুর রহমান বলেন, “একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।