পটিয়ায় সবজির দাম কমলেও মাছের বাজার চড়া

পটিয়ায় কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখনো চড়া। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে না। তাই বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পটিয়া থানার হাট, কামাল বাজার, মুন্সেফ বাজার, কমল মুন্সির হাট ও অলির হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং শিম ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
তবে মাছের বাজারে এখনো চড়া দাম বিরাজ করছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, রুই ৪০০ টাকা, কাতল ৫০০ টাকা এবং ইলিশ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক ক্রেতা মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
বাজার করতে আসা চাকরিজীবী আলী কদর জীবন বলেন, সবজির কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও মাছের দাম অনেক বেশি। রুই ৪০০ ও কাতল ৫০০ টাকা কেজি হলে সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে নিয়মিত মাছ কেনা কঠিন। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং হলে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন রনী ও এনায়েত সওদাগর বলেন, পাইকারি বাজারের দাম ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন কারণে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে। মাছের ক্ষেত্রেও সরবরাহ ও আড়তপর্যায়ের দামের প্রভাব রয়েছে। তবে ক্রেতাদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করা উচিত।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, ডিম ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তুলনামূলক বেশি। দোকানভেদে একই পণ্যের দামে পার্থক্য থাকায় প্রকৃত বাজারদর নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বাজারে নিয়মিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, “বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাতে অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু বিশেষ সময়ে নয়, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের ওপর দ্রব্যমূল্যের চাপ কিছুটা কমবে।









