পটিয়ায় বিদ্যুৎ অফিসে প্রি-পেইড মিটারে টোকেন যন্ত্রণা: গ্রাহকদের ভিড়
হঠাৎ বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রি-পেইড মিটারে নতুন ট্যারিফ কার্যকরের পর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পটিয়ার হাজারো গ্রাহক। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পর মিটার রিচার্জ সংক্রান্ত নানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে পটিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যালয়ে ১৯ জুন গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে যে পরিমাণ ইউনিট পাওয়া যেত, বর্তমানে একই পরিমাণ টাকায় তুলনামূলক অনেক কম ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এর পাশাপাশি রিচার্জকৃত টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন গ্রাহকরা। একটি টোকেনের বিপরীতে প্রায় ২২০ থেকে ২৪০ সংখ্যার দীর্ঘ কোড মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে কম ধারণাসম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অনেকেই বারবার নম্বর প্রবেশ করেও সফল না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে এসে কর্মকর্তাদের সহায়তা নিচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই অফিস প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইন ও গ্রাহকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
পটিয়া পৌরসভার একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এমনিতেই তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তার ওপর দীর্ঘ টোকেন কোড প্রবেশের ঝামেলা এবং রিচার্জ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় গ্রাহক সুফি মোহাম্মদ রেজা বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও প্রি-পেইড মিটারের জটিলতায় আমরা অনেক হিমশিম খাচ্ছি। মিটারে একসঙ্গে এত দীর্ঘ নম্বর প্রবেশ করাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। অনেক সময় চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারিনি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে পটিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কমপ্লেইন্ট অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ আতাহার জানান, নতুন ট্যারিফ কার্যকর এবং প্রযুক্তিগত হালনাগাদের কারণে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন শত শত গ্রাহক মিটার রিচার্জ ও টোকেন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে অফিসে আসছেন। আমরা দ্রুততার সঙ্গে তাদের সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছি। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্যারিফ ও প্রযুক্তিগত আপডেটের কারণে কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে পটিয়া বিদ্যুৎ অফিসে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক বিভিন্ন অভিযোগ ও টোকেন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে ভিড় করছেন। ফলে জনমনে অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।






