নাইক্ষ‍্যংছড়ির সোনাইছড়িতে ৩শ মানুষ পেল ফ্রি চিকিৎসা সেবা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ‍্যংছড়ির সোনাইছড়িতে ৩শ মানুষ পেল ফ্রি চিকিৎসা সেবা

নাইক্ষ‍্যংছড়ির সোনাইছড়িতে ৩শ মানুষ পেল ফ্রি চিকিৎসা সেবা
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ‍্যংছড়ির সোনাইছড়িতে তিন শতাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান, বৃক্ষচারা, শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ বিজিবি কর্তৃপক্ষ।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক এ দায়িত্ব পালনে কাজ করায় আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছে বিজিবি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিনব্যাপী ১১ বিজিবির উদ্যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সোনাইছড়িতে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দিনব্যাপী মেডিকেল ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে অধিনায়ক নিজে উপস্থিত হন।

তিনি বিনামূল্যে এ চিকিৎসা সেবার শুভ উদ্বোধন করেন সকাল ৯টায়। এর পরপরই শুরু হয় ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম। এছাড়া তিনি শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, খেলাধুলার উপকরণ এবং পরিবেশবান্ধব বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচিতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন।

কর্মসূচির আওতায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত প্রায় তিন শতাধিক গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের চিকিৎসা কেন্দ্রে আনার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করতে সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১শত জন এবং সোনাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, খেলাধুলার উপকরণ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত গরিব, অসহায় মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দেরসহ প্রায় ৬০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ২ জন শিক্ষক ও ১২ জন শিক্ষার্থীকে তাদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবি অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ডাক্তার, নার্স, শিক্ষার্থী, আনসার-ভিডিপি ও সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে পরিচালিত এ মেডিকেল ক্যাম্পেইন বিজিবির চলমান মানবিক কার্যক্রমেরই অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এমন কার্যক্রম অত্যন্ত উপকারী এবং জনসেবামূলক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”