নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশারিতে জমির মালিককে পথে বসাতে মরিয়া, কেয়ারটেকার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশারিতে জমির মালিককে পথে বসাতে মরিয়া, কেয়ারটেকার

নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশারিতে জমির মালিককে পথে বসাতে মরিয়া, কেয়ারটেকার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে কেয়ারটেকার ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে মালিকের বিশাল সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
প্রবাসীর স্ত্রী সাজেদা বেগমের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার হাফেজ আহমদ জাল কাগজপত্র তৈরি করে তার প্রায় ২০ একর জমি ও রাবার বাগান দখলের পাঁয়তারা করছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়ালেও আইনি জটিলতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী এই নারী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইশারী মৌজার ২৭৮ নম্বরের আওতাধীন ৩৭৮/৩৭১ নম্বর হোল্ডিংয়ে প্রায় ২০ একর জমি ২০১২ সালে আবুল হাশেম ও তার ভাইদের কাছ থেকে ক্রয় করেন সাজেদা বেগম। এর মধ্যে প্রায় ৩ একর ১০ শতক খতিয়ানি এবং বাকি অংশ রিপোর্ট ও খাস জমি। জমিতে পরবর্তীতে রাবার বাগান গড়ে তোলা হয়।
জমির একটি অংশ—প্রায় ১ একর ৬০ শতক—যার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর জমি ও খাস জমি রয়েছে, সেটির দেখভালের জন্য রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফেজ আহমদকে কেয়ারটেকার ও নাইটগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কেয়ারটেকারের জালিয়াতির ফাঁদ:
সাজেদা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার সুযোগে কেয়ারটেকার হাফেজ আহমদ কৌশলে জমির ওপর নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেন। তিনি বলেন,
প্রায় ১০ বছর বাগান দেখাশোনা করার পর হঠাৎ করে শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে।পরে তাকে চাকরি থেকে বাদ দিলে সে প্রতিশোধ নিতে জাল স্ট্যাম্প ও নোটারি করে আমার জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে।”
তার অভিযোগ, হাফেজ আহমদ একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভাড়া করে জমিতে টহল দিচ্ছে এবং পাহারাঘর দখল কিংবা আগুন দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ফলে স্বামী প্রবাসে থাকায় একা নারী হিসেবে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিক্রেতার বক্তব্য জমির বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, “আমরা প্রায় ১২ বছর আগে আমাদের পৈত্রিক জমি সাজেদা বেগমের কাছে বিক্রি করেছি। ২০১৩ সালে সব কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেয়ারটেকার হাফেজ আহমদ সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজ বানিয়ে মালিকানা দাবি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার নামে যে দলিল দেখানো হচ্ছে সেটাও জাল। এ বিষয়ে আমরাও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ :
নাইক্ষ্যংছড়ি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমাত জাহান ইতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন,
“অভিযুক্তদের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তারা বহিরাগত এবং তাদের আচরণও ছিল অস্বাভাবিক। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।”
বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “বিরোধীয় জমির প্রকৃত মালিক সাজেদা বেগম। কেয়ারটেকার হাফেজ আহমদ ভুয়া চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট ও স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।”আইনজীবীর বক্তব্য :
মামলা সংশ্লিষ্ট বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,অভিযুক্ত ব্যক্তি যে দলিল দেখাচ্ছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়া। তদন্ত রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। আদালতে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য:
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম কোম্পানি বলেন, “সাজেদা বেগম ও আবুল হাশেম এলাকার পরিচিত মানুষ। কেয়ারটেকার হাফেজ আহমদ তার স্বাক্ষর জাল করে সার্টিফিকেট তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মূল জমির মালিক ছিলেন আবুল হাশেম ও তার ভাইরা। তারা বৈধভাবেই জমি বিক্রি করেছেন।”
অভিযুক্ত কেয়ারটেকার হাফেজ আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আবুল হাশেমের কাছ থেকে জমি কিনেছ
আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগীর:
বর্তমানে জমি নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম অভিযোগ করেন, তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং আদালতে দৌড়াদৌড়ির কারণে তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।


স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”