নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির দায়িত্ব পালনে, পরিকল্পিত ভাবে বাঁধা সৃষ্টি করছে চোরাকারবারিরা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তুমব্রু ও ফুলতলী পয়েন্টে চোরাকারবারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি জোয়ানদের বারবার দায়িত্বে বাঁধার সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার রাতে ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু কোনার পাড়ায় পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে বাংলাদেশী পণ্য পাচারকালে বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালায় চোরাকারবারী দল। দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত হয়ে এ হামলা চালায় তারা। ফলে অনেকটা কৌশলী হয়ে আত্মরক্ষার পাশাপাশি-চোরাচালান"ও ঠেকিয়ে দেয় তারা।
বুধবার (৬ মে) সকালে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এ সব তথ্য জানা যায়।
তথ্য মতে,বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের
নতুন করে চোরাচালান বৃদ্ধি পায় নাইক্ষ্যংছড়ির ৮ টি পয়েন্ট। তন্মধ্যে কোনার পাড়া একটি। যেটি ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার সংলগ্ন ৪৩ ও ৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলার ঘেষা। এখানে দু'দেশে চলাচলে ছোট্র তুমব্রু খাল পার হতে হয়। যেখানে পানি থাকে হাটুর নিচে।
আর বাংলাদেশ এ পয়েন্টে কাঁটাতারের কোন বেড়া দেয় নি। মিয়ানমারের যে কাঁটাতার রযেছে তাও ওপারের বিদ্রোহীরা নিজেরাই পথ বানিয়ে চোরাকারবারিদের আসা-যাওয়ার সুযোগ করে দিযেছে অনেক আগে। কেননা এ কাঁটাতার নির্মান করছিল মিয়ানমার জান্তা বাহিনী।বর্তমানে বিদ্রোহীরা জান্তাদের ভয়ে এপারে পাড়ি দিতে এবং তাদের খাদ্য রশদ সংগ্রহ করতে এ কাঁটাতারের ফাঁকে ফাঁকে সরু পথ বানিয়ে চোরাকারবারিদের
উৎসাহিত করে নির্বিগ্ন চলাচলে।
সুত্র আরো জানান,এ সব ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বিজিবি কিছুটা বিব্রত হলেও নিরুপায় তারা। তবে নিজেদের দেশ থেকে পণ্য পাচারে যাবতীয় তৎপতা করে থাকে রাত-দিন । আর মিয়ানমার থেকে মাদক ও রোহিঙ্গা পারাপারেও সচেষ্ট বলে সুত্র নিশ্চিত করেন।মঙ্গলবার রাতে তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ঔষধ,সার,খাদ্যসামগ্রী সহ নানা ধরণের পণ্য পাচারকালে ৩৪ বিজিবির তুমব্রু বিওপির সদস্যরা বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চোরাচালান সেন্ডিকেটের প্রধান মিজান,আশরাফুল ও জহিরের নেতৃত্বে একদল চোরাকারবারি হামলা চালায় বিজিবি সদস্যের উপর।
দীর্ঘ ১ ঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চোরাকারবারীরা বিজিবিকে ব্যস্ত করে রাখে। এ সময় চোরাকারবারি দল অন্ধকারে বিজিবিকে আঘাত করতে গিয়ে
নিজেদের একজনের উপর লাঠির আঘাত
করে বসে নিজেরাই। এতে চোরাকারবারি আশরাফুল মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন বলে
জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে এ ঘটনায় অন্য কোন হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।
এদিকে সীমান্তের ফুলতলী পয়েন্টেও বিজিবি সদস্যের উপর বেশ কয়েকবার
হামলা করে চোরাকারবারি চক্র। এতে বিজিবি বাদী হয়ে প্রত্যেক ঘটনার বিপরীতে মামলা করে বিজিবি।
বিষয়টি ১১ বিজিবি কতৃপক্ষ নিশ্চিত করে।
তুমব্রু ঘটনার বিষয়ে ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে:কর্ণেল এস এম খাইরুল আলম বলেন,বিষয় নিয়ে বিজিবি ব্যবস্থা নিয়েছে। সীমান্তে চোরাকারবারিদের ছাড় নেই। বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উক্ত বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফয়জুল কবির জানান,তিনি ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন তার অধিনস্থ ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ থেকে। তবে এখনও অভিযোগ পাননি তিনি। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









