নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার ছেলে, পোল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলছেন

হেফজ বিভাগের ছাত্র সাইফুল্লাহ সাকিব এখন পোল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পাওয়ায় খুশিতে উদ্বেলিত পুরো নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ। নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের চাকঢালার কৃতিসন্তান সাইফুল্লাহ চাকঢালা বাজার ব্যবসায়ীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাইফুল্লাহ সাকিবের ব্যবসায়ী পিতা মুহাম্মদ ইউনুস।
তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,তার ছেলে সাইফুল্লাহ এখন পোল্যান্ডে ৩ বছর পার হচ্ছে।সে মধ্য ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দলে চান্স পেয়েছে।২৫ এপ্রিল সে দলের হয়ে খেলতে গেছে ক্রোয়েশিয়ার মাঠে। খেলায় সে পোল্যান্ডের হয়ে স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে।স্লোভেনিয়া পূর্ব এবং পশ্চিম ইউরোপের মধ্যকার সেতু রচনা করা ছোট্ট একটা দেশ। রোববার খেলবে
ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।
তিনি আরো বলেন,তিনি চাকঢালা বাজার
ব্যবসায়ী ও কৃষক। তার ৫ সন্তানের মধ্যে সাইফুল্লাহ সাকিব দ্বিতীয়। সাকিবের জন্ম ১৯৯৮ সালে। তার নিজের এবং মায়ের ইচ্ছায় তাকে প্রথমে ককসবাজারের একটি হেফজখানায় ভর্তি করানো হয় ২০০৬ সালে। পরে নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মাদরাসা ও পরে চাকঢালা মাদরাসায় পড়া লেখা করে সে। দাখিল পাস করে চলে যায় ঢাকায়। পুর্ব পরিচয়ের সুত্র ধরে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের হাত ধরে ঢাকার একটি কলেজে ভতি হয় সে। ইংরেজি বিষয়ে অনার্সের ভর্তি হয়। একই সাথে ক্রিকেট খেলায় মত্ত ছিল সে।
পরে ডাক পেয়ে পোল্যান্ডে চলে যায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে।
প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদ ইউনুস আরো বলেন,
তার ছেলের এ সফলতা তিনি বুকভরে বিধাতার কাছে শুকরিয়া জানান। দোয়া চান দেশেবাসীর কাছে। তার মতে যে ছেলে ছোটকাল থেকে পড়া-লেখার ফাঁকে ফাঁকে
শুধু ক্রিকেটে মশগুল থাকতো। তাকে খুঁজলে পাওয়া যেত মাঠে । সে ক্রিকেট মাঠ আর ক্রিকেট ব্যাটের সঙ্গি
ছিলো। আজ তার স্বপ্ন পূরণ হলো। দেশের মূখ উজ্জ্বল করল। ছেলের জন্যে তিনি সকলের সহযোগী ও দোয়া চান।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম বাহাদুর বলেন, সাইফুল্লাহ খুবই অমায়িক ছেলে ছিল। তার সফলতার খবর এখন ভাইরাল। তার এ কৃতিত্ব দেশের সকল মানুষের। তার এ সফলতা নাইক্ষ্যংছড়ির প্রতিটি মানুষের কাছে গর্বের।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,এখবরটি তিনি শুনে খুবই খুশি। যদি সত্যি সে মধ্য ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পায়,তা হলে তো অনেক গৌরবের। দেশ তাকে নিযে গর্ব করতে পারে।









