নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পাচারের প্রস্তুতির সময় সার ও সিমেন্ট জব্দ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা মূল্যের সার, সিমেন্ট ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার হাঁটুভাঙা টিলা, তুলাতলী, তিনছড়ি ও বাকখালী নদীসংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
১১ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চোরাচালানবিরোধী ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মোট ৭ লাখ ৭২ হাজার ২১৫ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সার, ৮১ বস্তা সিমেন্ট এবং ১৯৮.২৫ ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ১০০ কেজি, টিএসপি ৩৫০ কেজি, ডিএপি ১৫০ কেজি ও পটাশ ৫০ কেজি—মোট ৬৫০ কেজি সার। এ ছাড়া ডায়মন্ড ব্র্যান্ডের ৮১ বস্তা সিমেন্ট, ১৭৭.৭৭ ঘনফুট লালি গোল কাঠ এবং ২০.৪৮ ঘনফুট আকাশমনি কাঠসহ মোট ১৯৮.২৫ ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যাতে অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মূল্যবান বনজ সম্পদ অবৈধভাবে আহরণ ও পাচার প্রতিরোধেও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।
জব্দ করা মালামাল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, আটক করা বিভিন্ন প্রকার সার ও সিমেন্ট নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা করছিল স্থানীয় চোরাকারবারিরা।











