নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির অভিযান: কচ্ছপিয়া থেকে দুই রঙের বিপুল ইয়াবা উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির অভিযান: কচ্ছপিয়া থেকে দুই রঙের বিপুল ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির অভিযান: কচ্ছপিয়া থেকে দুই রঙের বিপুল ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় প্রায় ৪০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা রামু উপজেলার গর্জনিয়া গরুর হাটসংলগ্ন চাকমারকাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল মাদক চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালায়।

বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানের একপর্যায়ে চাকমারকাটা এলাকার একটি পাটখেতের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ফেলে রাখা একটি বস্তা দেখতে পায় টহল দল। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় খয়েরি রঙের ৩৯ হাজার ৫০২ পিস এবং সবুজ রঙের ৪০০ পিসসহ মোট ৩৯ puzzle ৯০২ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় ইয়াবার মালিক বা চোরাকারবারিদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবি নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে মাদক চোরাকারবারিরা ইয়াবা পাচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ ১১ বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযানের কারণে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা তৈরি হয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”