নাইক্ষ্যংছড়ি টোল ইজারায় ‘সিন্ডিকেটের’ প্রভাবের অভিযোগ

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চলতি অর্থবছরের টোল পয়েন্ট ইজারা কার্যক্রমে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হাসপাতাল সড়ক পথ টোল পয়েন্টের দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই টোল পয়েন্টের দর কয়েক দফায় কমে যাওয়ায় সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে পুনঃযাচাইয়ের দাবী তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে জানা যায়, ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত দরপত্র খোলার কার্যক্রমে ‘‘নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হাসপাতাল সড়ক পথ’’ টোল পয়েন্টের বিপরীতে মোট চারটি দরপত্র জমা পড়ে। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দর পাওয়া যায়। যিনি এই দর হাকিয়েছেন তিনি গত অর্থবছরে এই টোল পয়েন্টটি ১কোটি ৫লাখ টাকায় নিয়েছিলেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চলতি অর্থবছরে প্রথম দফার দরপত্রে এই টোল পয়েন্টের দর ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় দর ৪০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সর্বশেষ চতুর্থ দফায় একই সিন্ডিকেটের একটি পক্ষ ৪০ লাখ টাকা এবং তাদেরই সংশ্লিষ্ট আরেকটি গ্রæপ (পর্দার আড়ালে) ৫০ লাখ টাকা দর দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
গত অর্থবছরে একই টোল পয়েন্ট ১ কোটি ৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। চলতি অর্থবছরেও এর প্রথম দফার দরপত্রে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর উঠলেও সর্বশেষ ইজারায় তুলনামূলক কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হলে জেলা পরিষদ তথা সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন এই টোল পয়েন্টটি গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে আসা অবৈধ গরু এবং বৃহত্তর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও লেমুছড়ি এলাকার উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কারণে এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে টোল পয়েন্টটির আয় সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু উপজেলার কয়েকজন চিহ্নিত ইজারাদার একত্রিত হয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে কম মূল্যে দর দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের বাইরে অন্য কেউ ইজারায় অংশ নিতে চাইলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দরপত্রের ফরম কিনে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দরপত্র খোলার দিন জেলা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা টোল ইজারা ডাকের বিষয়ে পরবর্তী আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জানান।








