নাইক্ষ্যংছড়ির হাতির ডেরা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল এবং ব‍্যাগ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির হাতির ডেরা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল এবং ব‍্যাগ উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ির হাতির ডেরা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল এবং ব‍্যাগ উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক স্থানে  অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মৃত্যু বশির উল্লাহ খতিয়ানের পাহাড়ি জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবহিত করেন।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত পর্যালোচনা করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কঙ্কালটি কতদিন আগের, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।”

এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।”

বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

স্থানীয়দের ধারণা, দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া আলামত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”