নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ও ঘুমধুমে ইয়াবা কারবারিরা কৌশলী, প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ও ঘুমধুমে ইয়াবা কারবারিরা কৌশলী, প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর

নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ও ঘুমধুমে ইয়াবা কারবারিরা কৌশলী, প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তজুড়ে বসেছে ইয়াবার হাট। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপর হলেও পাচারকারীরা নিত্যনতুন কৌশলে তাদের পাচার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে দেশ, নষ্ট হচ্ছে যুবসমাজ। গত কয়েক দিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্যমতে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাটি মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের অন্যতম ভূ-সীমান্তবর্তী এলাকা। এই উপজেলার পাশেই রয়েছে দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার। দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন। অতীতে প্রভাবশালী অনেকের গাড়িবহরে ইয়াবা পাচার করার গুঞ্জন রয়েছে। বর্তমানেও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এই ইয়াবা কারবার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার (১৩ মে)। ওই দিন এক মোটরসাইকেল চালকের বাড়ি থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সীমান্তের রামু থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামু থানার গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মোহাম্মদ জুয়েল। তিনি বলেন, "সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করেছে। এই বিষয়ে কারও ছাড় নেই।"

এদিকে যে ৪ জনের নামে মামলা হয়েছে, তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। এমনকি তাদের কয়েকজন সম্প্রতি সরকারি দলের নেতাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণও করে নেন। তাদেরই একজন সোহেল, যার বাড়ি থেকে ১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অপরদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়িতে সম্প্রতি একটি সভায় ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়েজুল কবির বলেছেন, তিনি মাদক ও চোরাচালান বন্ধ করতে প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই অপকর্মে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণের কারণেই মূলত মাদক কারবারিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই নির্দেশ পালনে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশ অত্যন্ত তৎপর।"

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি দক্ষিণ সীমান্তে দায়িত্বরত ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. খাইরুল আলম বলেন, "আমরা মাদক কারবারি ও চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এই কারণেই কোটি কোটি টাকার মাদক জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।" এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে ৩৪ বিজিবির জোয়ানরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্তের ১০টি চোরাচালান পয়েন্টের ওপারে এবং এপারে রুদ্ধদ্বারভাবে বসে ইয়াবা ট্যাবলেট বেচা-কেনার হাট। কারবারিদের পাহাড়ায় ওপারে দিনের বেলা এবং এপারে রাতের আঁধারে সক্রিয় থাকে সিন্ডিকেট। এসব মাদক পাচারকারী যুবকদের হাতে থাকে মরণাস্ত্র। কোথাও বাধাগ্রস্ত হলেই তারা অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করে না।

সীমান্তবর্তী রামু কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, তার এলাকায় প্রতি রাতে গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

অপরদিকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুর রহমান, উচাচিং মার্মা ও কমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বর্তমানে সোনাইছড়িতে গভীর রাতে মাদকের হাট বসে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, বিদেশি মদ ও অন্যান্য চোরাই পণ্য মূলত ৪টি পয়েন্ট দিয়ে এপারে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, সোনাইছড়ি সীমান্তে মাদক পাচারের সাথে জড়িত গডফাদারদের মধ্যে জেজে মার্মা ও লাটুচি মার্মা অন্যতম। এ ছাড়া ঘুমধুমে আরও ৩০ জন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে ৪৭ জন এবং গর্জনিয়ায় ৩৪ জন সক্রিয় কারবারি রয়েছে। আর তাদের সহায়তাকারী ও বহনকারী শ্রমিক রয়েছে কয়েক হাজার।

(চলবে... আসছে দ্বিতীয় পর্ব)




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”