নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী পূর্ণগ্রামে কৃষকের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই হাতিটি মারা গেছে, শোকে কাতর হাতির দল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী পূর্ণগ্রামে কৃষকের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই হাতিটি মারা গেছে, শোকে কাতর হাতির দল

নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী পূর্ণগ্রামে কৃষকের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই হাতিটি মারা গেছে, শোকে কাতর হাতির দল
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঈদগাঁও রেঞ্জ এলাকায় কৃষকের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই মা বন্য হাতিটি মারা গেছে। শনিবার রাত পৌনে ১২টায় সেটি মারা যায়। এ সময় শাবকের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পূর্ণগ্রাম এলাকা। এর কিছুক্ষণ পর ১০টি বন্য হাতি এসে মৃত হাতিটিকে ঘুরে ঘুরে দেখে। যেন তারা শোক জানাচ্ছিল। এই ঘটনা জানাজানি হলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ড কাগজিখোলার ক্যাংগারবিল সংলগ্ন চকরিয়ার খুটাখালী পূর্ণগ্রামে অতি দুর্বল একটি বন্য মা হাতি অসুস্থ অবস্থায় দুই দিন ধরে এক কৃষকের বাড়ির পাশে অবস্থান করছিল। বৃদ্ধ কৃষক নূর মোহাম্মদের (৬৫) কাছে সেটি আশ্রয় নিয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে হাতিটি পড়ে থাকায় এলাকায় কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। হাতিটির সঙ্গে থাকা একটি ছোট শাবককে মায়ের পাশেই ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এর আগের দিন হাতি ও শাবকটি তাঁর বাড়ির চারপাশে ঘোরাঘুরি করছিল এবং চিৎকার করছিল। পরে তিনি টের পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির কাগজিখোলার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে বিষয়টি জানান এবং তাঁরা বন বিভাগকে খবর দেন।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় অনেকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত খাদ্যাভাব ও দুর্বলতার কারণে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাহাড়ি বনাঞ্চলে খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে বলেও জানান এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি দাশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সরেজমিনে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হাতিটিকে ওষুধ প্রয়োগ করতে দেখা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ আনা হয়েছিল এবং হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটি মারা গেল।

ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, মৃত হাতিটিকে মাটিচাপা দিয়ে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”