নাইক্ষ্যংছড়ির জামছড়িতে বহিরাগতদের হামলায় ছাত্রসহ আহত ৬, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তঘেঁষা জামছড়ি স্টেশনে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় এক ছাত্রসহ অন্তত ৬ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে নজির আহমদের ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলছে। গ্রামবাসীর দাবি, এই বিরোধের জেরে এক পক্ষ বহিরাগত লাঠিয়াল এনে শনিবার বিকেলে এই হামলা চালায়।
হামলায় আহত মনির আহমদ ও কাদির হোসেন বলেন, মূলত ১২ একর জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা হচ্ছিল। এতে স্থানীয় নাজির হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন দেশের কোনো আইনকানুন মানছেন না। এমনকি তিনি স্থানীয় সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তোয়াক্কা না করে বারবার মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে জমি নিজের আয়ত্তে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরের মেহেরঘোনা থেকে লাঠিয়াল সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে জমির প্রকৃত মালিক ও গ্রামবাসীর ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়।
এতে গুরুতর আহত হন শফিউল্লাহ (১৫), নূর মোহাম্মদ (২৪), আরিফুল্লাহ (১৯), হাফেজ আহমদ (১৯), মনির আহমদ (২০) ও কাদির হোসেন (২৬)।
জমির ওয়ারিশ কাদির হোসেন বলেন, "আমার পিতা নজির আহমদের ক্রয়কৃত ১২ একর জমির পুরোটাই তার ভাই আবুল হোসেন দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আজ কয়েক বছর ধরে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বান্দরবান আদালতে মামলা-পাল্টা মামলা চলছে। কিন্তু আদালতের কোনো তোয়াক্কা না করে আবুল হোসেন তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা থেকে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী এনে আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।"
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই তারা নাইক্ষ্যংছড়ি থানাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বিকেলেই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিনাল চাকমা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "বিষয়টি আমরা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"









