নাইক্ষ্যংছড়ির অজস্র মানুষের দাবি, উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্ত করে আনা হোক নতুনত্ব
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির অজস্র মানুষের দাবি, উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্ত করে আনা হোক নতুনত্ব

নাইক্ষ্যংছড়ির অজস্র মানুষের দাবি, উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্ত করে আনা হোক নতুনত্ব
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্তকরণ এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার, ঝুলন্ত ব্রিজ, কায়াকিং বোট, টংঘর, দোলনা ও অপরাপর বিনোদন স্পটে মানুষ দীর্ঘদিন মুগ্ধ। এখন নতুন করে কেবল কার সংযোজন সময়ের দাবি। এটি হলে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত দর্শনের পর পাহাড়ের আকর্ষণ তৃপ্তিসহকারে পূরণ করতে পারবেন ভ্রমণপিপাসুরা।

মঙ্গলবার (১২ মে) এ প্রতিবেদক স্থানীয় ভ্রমণপ্রিয় সচেতন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া জানতে পারেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম বাহাদুর এ প্রতিবেদককে বলেন, বান্দরবানের অতি আকর্ষণীয় নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটন লেক। এটিতে প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু আসেন। স্থানীয় ছাড়াও দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে। বিশেষ করে ঈদ-পার্বণ ও শীত মৌসুমে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে অনেক গুণ হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো দেখতে দেখতে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন পর্যটকরা। এখন নতুন কিছু চান তারা। এ অবস্থায় এখানে কেবল কার সংযোজন খুবই প্রয়োজন; যা তাদের দাবিও বটে।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছর ও এর আগের অর্থবছরে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে এটি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যা ক্রমান্বয়ে সবার অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়েছে। সরকার ও নেতা সবাই এর উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেন। তবে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে মানুষের চাহিদাও ডিজিটালাইজড হয়েছে। তাই অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন স্পটের মতো এখানে কেবল কার সংযুক্ত করলে এই পর্যটন লেকটি আরও আকর্ষণীয় হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুদ্দিন বাহাদুর বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযোজনে তিনি ভূমিকা রাখবেন। কারণ এটি নতুনত্ব সৃষ্টি করবে। কক্সবাজারের পর এটি হবে পাহাড়ের এক অপরূপ সৌন্দর্যের অংশ। শিক্ষক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, এটি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাঈনুদ্দিন খালেদ বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বিনোদন স্পটে নতুনত্ব দরকার। শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে এবং বিনোদনের জন্য আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট খুবই জরুরি। আর এ আকর্ষণ সৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার 'পাহাড়ের রানি' খ্যাত নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন লেকে কেবল কার সংযোজনে সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউর ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি গুরুত্ববহ। জনস্বার্থে সব কাজ সরকার করবে, এটিও তার অংশ। পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও পাহাড়ের পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনে আগ্রহী। তিনিও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন; তবে স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”