নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ সন্তানের জনক কর্তৃক ২ সন্তানের জননী অপহৃত: ১২ ঘণ্টায় উদ্ধার, আটক ২
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ সন্তানের জনক কর্তৃক ২ সন্তানের জননী অপহৃত: ১২ ঘণ্টায় উদ্ধার, আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ সন্তানের জনক কর্তৃক ২ সন্তানের জননী অপহৃত: ১২ ঘণ্টায় উদ্ধার, আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে চাঞ্চল্যকর নিখোঁজ গৃহবধূকে অপহরণের ১২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারচক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

র‌্যাব-১৫ সূত্র জানায়, তারা কক্সবাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হতে নিখোঁজ হওয়া এক গৃহবধূকে (২৩) একটি চক্র অপহরণ করে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। অভিযোগ পেয়ে তারা অপহরণকারী চক্রের প্রধানের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করেন এবং অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

অপহৃত গৃহবধূর স্বামী পক্ষ জানায়, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে গৃহবধূ নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে অপহৃত হন। পরে তারা র‌্যাব-১৫-কে অবহিত করেন। এরই ভিত্তিতে তারা কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী সংলগ্ন 'হাইপ্রিয়ান সীপাল' আবাসিক হোটেলের ৬/সি নম্বর রুমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিখোঁজ ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ২ জন অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত ১টি নোহা মাইক্রোবাস (রেজি. নং- ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৫৩২৩) জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো: ১. শামসুল আলম (৩৩), পিতা- ছুরত আলম, সাং- দক্ষিণ ফাক্রিকটা (৫নং ওয়ার্ড), ইউনিয়ন- কচ্ছপিয়া, থানা- রামু, জেলা- কক্সবাজার। সে ৩ সন্তানের জনক ও সিএনজি চালক। সে ওই গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে নিয়মিত হোটেলে নিয়ে যেত। পাশাপাশি সে তার বাড়িতে থাকা স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করত বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ।
২. ড্রাইভার শাহ আলম (৩৪), পিতা- মমতাজ আহমেদ, সাং- ঘাটপাড়া খুরুলিয়া (০৮নং ওয়ার্ড), ইউনিয়ন- ঝিলংজা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।

র‌্যাব-১৫ সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে চালক শাহ আলমের মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করে তারা দুর্গম এলাকা থেকে ভিকটিমদের কৌশলে অপহরণ করে পর্যটন এলাকায় নিয়ে আসত। সাধারণ জনগণের নিকট তারা ভদ্রবেশী হলেও পর্দার আড়ালে তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য, যারা মূলত অসহায় নারী ও তরুণীদের টার্গেট করে পাচার বা অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করত। তাদের এহেন কর্মকাণ্ডে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

উল্লেখ্য যে, ২ সন্তানের জননী ভিকটিম আকলিমা আক্তার মুনি (৩০)-এর স্বামীর নাম ওসমান গনি বাপ্পি। ভিকটিমের পিতার নাম মোহাম্মদ ছিদ্দিক ও মাতা মিনু আরা বেগম। পিতার বাড়ির ঠিকানা: সাং- বাগানঘোনা, ০২নং ওয়ার্ড, ০১নং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর। সে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ইতিপূর্বে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

অভিযোগ প্রাপ্তির মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গৃহবধূকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। উদ্ধারকৃত ভিকটিম এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জব্দকৃত আলামতসহ কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জনস্বার্থে র‌্যাব-১৫-এর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরে আসামিদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়।

থানায় মামলা করেন অপহৃত গৃহবধূ মুনি (৩০)। মামলার পর আসামিদের বান্দরবান আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মুহাম্মদ আকরাম উল্লাহ।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”