নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ সন্তানের জনক কর্তৃক ২ সন্তানের জননী অপহৃত: ১২ ঘণ্টায় উদ্ধার, আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়িতে চাঞ্চল্যকর নিখোঁজ গৃহবধূকে অপহরণের ১২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারচক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫।
র্যাব-১৫ সূত্র জানায়, তারা কক্সবাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হতে নিখোঁজ হওয়া এক গৃহবধূকে (২৩) একটি চক্র অপহরণ করে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। অভিযোগ পেয়ে তারা অপহরণকারী চক্রের প্রধানের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করেন এবং অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।
অপহৃত গৃহবধূর স্বামী পক্ষ জানায়, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে গৃহবধূ নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে অপহৃত হন। পরে তারা র্যাব-১৫-কে অবহিত করেন। এরই ভিত্তিতে তারা কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী সংলগ্ন 'হাইপ্রিয়ান সীপাল' আবাসিক হোটেলের ৬/সি নম্বর রুমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিখোঁজ ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ২ জন অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত ১টি নোহা মাইক্রোবাস (রেজি. নং- ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৫৩২৩) জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো: ১. শামসুল আলম (৩৩), পিতা- ছুরত আলম, সাং- দক্ষিণ ফাক্রিকটা (৫নং ওয়ার্ড), ইউনিয়ন- কচ্ছপিয়া, থানা- রামু, জেলা- কক্সবাজার। সে ৩ সন্তানের জনক ও সিএনজি চালক। সে ওই গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে নিয়মিত হোটেলে নিয়ে যেত। পাশাপাশি সে তার বাড়িতে থাকা স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করত বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ।
২. ড্রাইভার শাহ আলম (৩৪), পিতা- মমতাজ আহমেদ, সাং- ঘাটপাড়া খুরুলিয়া (০৮নং ওয়ার্ড), ইউনিয়ন- ঝিলংজা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।
র্যাব-১৫ সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে চালক শাহ আলমের মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করে তারা দুর্গম এলাকা থেকে ভিকটিমদের কৌশলে অপহরণ করে পর্যটন এলাকায় নিয়ে আসত। সাধারণ জনগণের নিকট তারা ভদ্রবেশী হলেও পর্দার আড়ালে তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য, যারা মূলত অসহায় নারী ও তরুণীদের টার্গেট করে পাচার বা অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করত। তাদের এহেন কর্মকাণ্ডে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
উল্লেখ্য যে, ২ সন্তানের জননী ভিকটিম আকলিমা আক্তার মুনি (৩০)-এর স্বামীর নাম ওসমান গনি বাপ্পি। ভিকটিমের পিতার নাম মোহাম্মদ ছিদ্দিক ও মাতা মিনু আরা বেগম। পিতার বাড়ির ঠিকানা: সাং- বাগানঘোনা, ০২নং ওয়ার্ড, ০১নং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর। সে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ইতিপূর্বে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
অভিযোগ প্রাপ্তির মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গৃহবধূকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র্যাব। উদ্ধারকৃত ভিকটিম এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জব্দকৃত আলামতসহ কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জনস্বার্থে র্যাব-১৫-এর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরে আসামিদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়।
থানায় মামলা করেন অপহৃত গৃহবধূ মুনি (৩০)। মামলার পর আসামিদের বান্দরবান আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মুহাম্মদ আকরাম উল্লাহ।









