নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৭৫ জনকে আর্থিক অনুদান দিলেন সাচিং প্রু জেরী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৭৫ জনকে আর্থিক অনুদান দিলেন সাচিং প্রু জেরী

নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৭৫ জনকে আর্থিক অনুদান দিলেন সাচিং প্রু জেরী
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বুধবার (১ জুলাই) দিনব্যাপী জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নধর্মী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।

বুধবার সকাল ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়িতে পৌঁছেই তিনি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে ৭৫ জন অসহায় ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান দেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গত ১৭ বছরে মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নির্বাচিত অসহায়, দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত উপকারভোগীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সদস্য ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ নুরুল আলম কোম্পানি বলেন, “এই সহায়তা উপকারভোগীদের জরুরি প্রয়োজন পূরণে এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

এরপর পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।

সভায় উপজেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবায় বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই মতবিনিময় সভার মূল লক্ষ্য।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের আর্থিক সহায়তা প্রদান, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়মূলক আলোচনা—সব মিলিয়ে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর দিনব্যাপী কর্মসূচি নাইক্ষ্যংছড়ির সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”