নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও সেতু ধস্ত, বরাদ্দ ১০ টন খাদ্যশস্য
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও সেতু ধস্ত, বরাদ্দ ১০ টন খাদ্যশস্য

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও সেতু ধস্ত, বরাদ্দ ১০ টন খাদ্যশস্য
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ধসে গুড়িয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি এবং ঢলের স্রোতে ভেঙে পড়েছে বাইশারী ইউনিয়নের একটি সেতু, যাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অং পাড়ায় প্রবল পানির স্রোতে গর্জন খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটি ভেঙে পড়ে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মংচাচিং মার্মা বলেন, “ভোররাত ৪টার দিকে বিকট শব্দে আমাদের ঘুম ভাঙে। বাইরে এসে দেখি সেতুটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে আছে। এখন পাড়ার মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ।” এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাহাড়ধসে রহমত উল্লাহ, শফি উল্লাহ, মোহাম্মদ ইসমাইলসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

741408702_1341118218209675_7079245574722198377_n
 

উপজেলার সোনাইছড়ি, দৌছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নতুন করে প্লাবনের শঙ্কায় দিন কাটছে পানিবন্দী মানুষের। এই দুর্যোগে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং দুর্গতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তিনি বলেন, “বাইশারীতে একটি সেতু ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। ইতিমধ্যে ঘুমধুম, বাইশারী ও সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।”




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”