নাইক্ষ্যংছড়িতে দোছড়ি সীমান্ত জনপদের ইউনিয়ন পরিষদের টোল-ট্যাক্স ডাক নিয়ে লুকোচুরি, ফোন ধরেন না চেয়ারম্যান
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে দোছড়ি সীমান্ত জনপদের ইউনিয়ন পরিষদের টোল-ট্যাক্স ডাক নিয়ে লুকোচুরি, ফোন ধরেন না চেয়ারম্যান

নাইক্ষ্যংছড়িতে দোছড়ি সীমান্ত জনপদের ইউনিয়ন পরিষদের টোল-ট্যাক্স ডাক নিয়ে লুকোচুরি, ফোন ধরেন না চেয়ারম্যান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) টোল-ট্যাক্স ইজারা ডাক নিয়ে লুকোচুরির মধ্য দিয়ে নিলাম সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি, পরবর্তীতে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগ উঠেছে, সোমবার (১৮ মে) দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ে ইজারাদারদের কাছ থেকে এই ডাক আহ্বান করা হয়। এতে পর্যাপ্তসংখ্যক নিলাম ডাককারী অংশ নেননি। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্যন্ত এই ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা টাওয়ার না থাকায় এবং পর্যাপ্ত প্রচার না হওয়ায় অনেকেই নিলামের বিষয়টি জানতে পারেননি। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীদেরও এই নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে মিলেমিশে এই ডাক সম্পন্ন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান।

দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রশিদ আহমদ জানান, তিনি এই ডাকে যাননি। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না।

অপর অংশের বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন মেম্বার জানান, তাঁরাও এই ডাকে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু গতবারের চেয়ে এবার তিন গুণ বেশি মূল্যে ইজারা নিয়ে নিয়েছেন কতিপয় ব্যক্তি, যাতে তিনি হতবাক হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মিয়ানমার সীমান্তের এই ইজারা ডাক একদল চোরাকারবারি তিন থেকে চার গুণ বেশি টাকায় ডেকে নিয়েছে। গত অর্থবছরে এই ডাক ছিল ৯ লাখ টাকা। এবার ভ্যাটসহ তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকায়। স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের চোরাই পণ্য থেকে টাকা আদায় করে লাভবান হতেই ডাককারীরা এমনটি করেছে। এর ফলে চোরাকারবারিরা উৎসাহিত হবে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চোরাচালানবিরোধী অভিযান ব্যাহত হতে পারে। কারণ, ইজারাদারেরা ইউনিয়ন পরিষদের রশিদ ব্যবহার করে দুদেশের চোরাই পণ্য পারাপার করার সুযোগ পেয়ে যাবে, যা দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসানের সাথে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

তবে এই ইজারা ডাক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইনামুল হক বলেন, বহুল প্রচারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। তবে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যেই ডাক সম্পন্ন হয়েছে। এই ডাকে দুিট স্পট দেখানো হয়েছে—একটি দোছড়ি, অপরটি চিকনছড়ি। দোছড়ি খালের ডাক ভ্যাট ছাড়া ২০ লাখ টাকা এবং চিকনছড়ি খালের ডাক ৯ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান শুধু ইউনিয়ন পরিষদের উৎপাদিত পণ্যের ট্যাক্স আদায়ের চিন্তা না করে প্রকারান্তরে চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। এছাড়া ইউনিয়নের বাইরের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের এই ডাকে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি এবং আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। অথচ অতীতে এই ধরনের ইজারা ডাকে দেশের যেকোনো নাগরিক অংশ নিতে পারতেন এবং এখনো দেশের সর্বত্র এই নিয়মই চলমান রয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”