নাইক্ষ্যংছড়িতে দোছড়ি সীমান্ত জনপদের ইউনিয়ন পরিষদের টোল-ট্যাক্স ডাক নিয়ে লুকোচুরি, ফোন ধরেন না চেয়ারম্যান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) টোল-ট্যাক্স ইজারা ডাক নিয়ে লুকোচুরির মধ্য দিয়ে নিলাম সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি, পরবর্তীতে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগ উঠেছে, সোমবার (১৮ মে) দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ে ইজারাদারদের কাছ থেকে এই ডাক আহ্বান করা হয়। এতে পর্যাপ্তসংখ্যক নিলাম ডাককারী অংশ নেননি। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্যন্ত এই ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা টাওয়ার না থাকায় এবং পর্যাপ্ত প্রচার না হওয়ায় অনেকেই নিলামের বিষয়টি জানতে পারেননি। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীদেরও এই নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে মিলেমিশে এই ডাক সম্পন্ন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান।
দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রশিদ আহমদ জানান, তিনি এই ডাকে যাননি। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না।
অপর অংশের বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন মেম্বার জানান, তাঁরাও এই ডাকে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু গতবারের চেয়ে এবার তিন গুণ বেশি মূল্যে ইজারা নিয়ে নিয়েছেন কতিপয় ব্যক্তি, যাতে তিনি হতবাক হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মিয়ানমার সীমান্তের এই ইজারা ডাক একদল চোরাকারবারি তিন থেকে চার গুণ বেশি টাকায় ডেকে নিয়েছে। গত অর্থবছরে এই ডাক ছিল ৯ লাখ টাকা। এবার ভ্যাটসহ তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকায়। স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের চোরাই পণ্য থেকে টাকা আদায় করে লাভবান হতেই ডাককারীরা এমনটি করেছে। এর ফলে চোরাকারবারিরা উৎসাহিত হবে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চোরাচালানবিরোধী অভিযান ব্যাহত হতে পারে। কারণ, ইজারাদারেরা ইউনিয়ন পরিষদের রশিদ ব্যবহার করে দুদেশের চোরাই পণ্য পারাপার করার সুযোগ পেয়ে যাবে, যা দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসানের সাথে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে এই ইজারা ডাক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইনামুল হক বলেন, বহুল প্রচারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। তবে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যেই ডাক সম্পন্ন হয়েছে। এই ডাকে দুিট স্পট দেখানো হয়েছে—একটি দোছড়ি, অপরটি চিকনছড়ি। দোছড়ি খালের ডাক ভ্যাট ছাড়া ২০ লাখ টাকা এবং চিকনছড়ি খালের ডাক ৯ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান শুধু ইউনিয়ন পরিষদের উৎপাদিত পণ্যের ট্যাক্স আদায়ের চিন্তা না করে প্রকারান্তরে চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। এছাড়া ইউনিয়নের বাইরের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের এই ডাকে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি এবং আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। অথচ অতীতে এই ধরনের ইজারা ডাকে দেশের যেকোনো নাগরিক অংশ নিতে পারতেন এবং এখনো দেশের সর্বত্র এই নিয়মই চলমান রয়েছে।









