ধারাবাহিক পর্ব ১: রোয়াংছড়িতে বন উজাড়ের মহোৎসব: রেঞ্জ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় কমল তঞ্চঙ্গ্যার কাঠ পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক পর্ব ১: রোয়াংছড়িতে বন উজাড়ের মহোৎসব: রেঞ্জ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় কমল তঞ্চঙ্গ্যার কাঠ পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ

ধারাবাহিক পর্ব ১: রোয়াংছড়িতে বন উজাড়ের মহোৎসব: রেঞ্জ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় কমল তঞ্চঙ্গ্যার কাঠ পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

পাহাড়ের রানি ও মেঘের রাজ্যখ্যাত বান্দরবান জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে বনভূমি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ বনখেকো চক্রের দৌরাত্ম্যে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এ জেলার মূল্যবান বনসম্পদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের নীরব ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রতিদিনই পাচার হচ্ছে সেগুন, গামারী, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। এমনকি কর্তন নিষিদ্ধ চম্পাফুল, বৈলাম ও গেদা কাঠও রোয়াংছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে বান্দরবান সদর হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোয়াংছড়ি উপজেলার বাগমারা ইউনিয়ন থেকে সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের চরইপাড়া হয়ে বালাঘাটা–চন্দনাইশ ধোপাছড়ি সড়ক বর্তমানে অবৈধ কাঠ পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ট্রাক ও পিকআপে করে কাঠ নামিয়ে এনে এই রুট ব্যবহার করে পাচারকারীরা নির্বিঘ্নে কাঠ সরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের রোয়াংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা শফিকুল আমিন পাটোয়ারীর ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সরকারি জোত পারমিটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। কাগজে-কলমে বৈধতা দেখিয়ে বাস্তবে বন উজাড়ের এ প্রক্রিয়া এখন যেন প্রকাশ্য গোপন অপরাধে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক কমল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এ নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“জোত পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত গাছ কাটা হচ্ছে। পরে রাতের আঁধারে এসব কাঠ ট্রাক ও পিকআপে করে পাচার করা হয়। জেলা সদরের বিভিন্ন করাতকলসহ বাইরের জেলাতেও এসব কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। সবকিছুই হচ্ছে প্রকাশ্যে, কিন্তু যেন দেখার কেউ নেই।”
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, রোয়াংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা শফিকুল আমিন পাটোয়ারীর পরোক্ষ যোগসাজশে বিভিন্ন চেকপোস্টের নজরদারি এড়িয়ে সহজেই এসব কাঠ পাচার হচ্ছে। বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অর্থের বিনিময়ে অবৈধ কাঠ পরিবহনের জন্য অলিখিতভাবে ‘লাইন’ দেওয়া হয়, যার ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভাষায়, দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি কেউ পাচারকারীদের নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরি করে দেয়, তাহলে বন রক্ষার পুরো ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, এক বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও দুই বছরের বেশি সময় ধরে রোয়াংছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুল আমিন পাটোয়ারী। বন বিভাগের প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তার দায়িত্বকাল বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বন বিভাগের অভ্যন্তরেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, লাগাতার বন উজাড়ের ফলে শুধু পরিবেশ নয়, পুরো পাহাড়ি জনপদই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বন ধ্বংসের কারণে পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক ঝিরি ও জলাধার, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। অথচ একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযোগের ব্যাপারে রোয়াংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা শফিকুল আমিন পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন,
“আমি এ বিষয়ে অবগত নই।”
কমল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন,
“কমল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার নামে কোনো জোত পারমিট নেই। আমার জানা মতে, তারা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির দ্বারস্থ রয়েছে। এর বাইরে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ থাকে, তাহলে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই কাঠ পাচার কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতার দাবি ‘বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’। তাদের প্রশ্ন, যদি এতদিন ধরে প্রকাশ্যে কাঠ পাচার চলতে থাকে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কীভাবে তা জানেন না?
পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে বনভূমি উজাড় চলতে থাকলে অচিরেই বান্দরবানের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তারা বলছেন, রোয়াংছড়ি রেঞ্জকে ঘিরে ওঠা কাঠ পাচারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে বন বিভাগের ভেতরে থাকা দুর্নীতির নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা ভেঙে না দিলে বন রক্ষার সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়ে যাবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”