দেশের বাইরে লামার জিমন্যাস্টিকস কোয়ান্টাদের সাফল্য অব্যাহত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

দেশের বাইরে লামার জিমন্যাস্টিকস কোয়ান্টাদের সাফল্য অব্যাহত

দেশের বাইরে লামার জিমন্যাস্টিকস কোয়ান্টাদের সাফল্য অব্যাহত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন উদীয়মান খেলোয়াড় সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপস ২০২৬-এর তৃতীয় দিনের খেলায় দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এদিন বাংলাদেশের জুনিয়র ও সিনিয়র জিমন্যাস্টরা মোট চারটি পদক জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ঝুলিতে এদিন যোগ হলো আরও ১টি স্বর্ণ, ২টি রুপা ও ১টি ব্রোঞ্জসহ ৪টি পদক।

জুনিয়র বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় উটিংওয়াং মারমা ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১৩.৫০০ পয়েন্ট অর্জন করে স্বর্ণপদক জয় করেন। এই ইভেন্টে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেন। এর আগে উটিংওয়াং মারমা স্টিল রিংস ইভেন্টেও সোনা জয় করেন।

অন্যদিকে মংচিং প্রু মারমা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১১.৭০০ পয়েন্ট পেয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। সিনিয়র বিভাগে বাংলাদেশের রাজিব চাকমা ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১২.৭০০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রৌপ্যপদক জয় করেন। এছাড়া উহাইমং মারমা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১২.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় জিমন্যাস্টরা ব্যক্তিগত ইভেন্টে মোট ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। এছাড়াও সিনিয়র ও জুনিয়র উভয় দল দলীয়ভাবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে।

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের শিক্ষার্থী (কোয়ান্টা)।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আরও একবার বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন পাহাড়ের উদীয়মান কৃতী জিমন্যাস্টরা। সিঙ্গাপুরে চলমান মর্যাদাপূর্ণ 'জুনিয়র অ্যান্ড সিনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপস (এসজিপি)'-এর ২১তম আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের এই ৭ উদীয়মান খেলোয়াড়।

বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জন জিমন্যাস্টকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছিল। মনোনীত ৭ জিমন্যাস্ট হলেন—উহাইমং মারমা, প্রেনথৈ ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, মেনটন টনি ম্রো, উটিংওয়াং মারমা, রাজীব চাকমা ও ওয়েওয়েসাই মারমা।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোয়ান্টাম জিমন্যাস্টদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুর ওপেনের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক ও অভূতপূর্ব সাফল্য দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের এই উদীয়মান কৃতী সন্তানরা অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চেও দেশের জন্য বড় গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”