দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ বিরতির পর দেশে আবারও দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী  বলেন, ‘আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া, আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের হাতে পৌঁছেছে। কিছু ক্যাপসুল বাকি আছে, সেগুলোও আগামী ১৯ তারিখের মধ্যে হাতে পাব বলে আশা করছি। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’

এদিকে, আজ সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৯ কোটি প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশু ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশুর অধিকাংশই আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাস করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, রাতকানা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।




দেশে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

দেশে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুর মধ্যে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রথমে দেশব্যাপী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিভাগীয় সিভিল সার্জনদের পাঠানো হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জনে। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

ডা. ইউনূস আলী আরও বলেন, ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রমের তথ্য যুক্ত হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিএনএইচের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে খুলনা বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ৯৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।




চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ৯, জুনে রোগী বেড়েছে চারগুণ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ৯, জুনে রোগী বেড়েছে চারগুণ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাসগুলোর তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৯ জনসহ চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২২ জন, যা এ বছরের সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। মে মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন এবং জানুয়ারিতে ৬৮ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখনও পুরোপুরি বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি। শিগগিরই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জ্বর, শরীরব্যথা, বমি ও খাবারে অরুচির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যাচ্ছে না। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহির দাবি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।




২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে আজ

২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে আজ
ছবি সংগৃহীত।

দেশজুড়ে আজ রোববার (২৮ জুন) একযোগে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এবারের ক্যাম্পেইনে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সেখানে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় সংগৃহীত মোট ৪ লাখ নীল রঙের এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ক্যাপসুল এরই মধ্যে দেশব্যাপী বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বয়স ও ক্যাপসুলের ধরন

  • ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: তাদেরকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
  • ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: তাদেরকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
    যদি আজ কোনো শিশু বাদ পড়ে?

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ কোনো শিশু যদি বিশেষ কারণে বাদ পড়ে, তবে পরদিন (২৯ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চারদিনও এই ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম চলবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

  • তীব্র বা জটিল অসুস্থতা ছাড়া সব শিশুই এই ক্যাপসুল খেতে পারবে।
  • ভরা পেটে খাওয়ানো: শিশুকে কোনো অবস্থাতেই খালি পেটে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
  • জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার দিতে হবে।