দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বান্দরবান সেক্টরে বিজিবির ১২ প্লাটুন টহল

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ উপলক্ষে বান্দরবান সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্যের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা টহল পরিচালনার পাশাপাশি ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর, বান্দরবান থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিজিবি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তর এবং এর অধীন রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি), বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) ও আলীকদম ব্যাটালিয়নের (৫৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রয়েছে নয়টি পূজামণ্ডপ। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিজিবির মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে টহলের সময় বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি বিজিবির ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা এবং সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত করতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে সেক্টর কমান্ডার বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
বিজিবি আশা প্রকাশ করেছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে। এ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানিয়েছে বাহিনীটি।











