দুনীতিবাজ সুরজিৎকে রক্ষায় মরিয়া চট্টগ্রাম বনসংক্ষক

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনসংরক্ষকের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলার চর থেকে বদলি হয়ে আসা ডেপুটি রেঞ্জার সুরজিৎ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে পদায়নকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে আবারও চট্টগ্রামে পদায়ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুরজিৎ চৌধুরী দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় চট্টগ্রাম সার্কেলের বিভিন্ন বন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ, বান্দরবান পাল্পউড বাগান বিভাগ এবং বান্দরবান বন বিভাগে।
জানা গেছে, কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বান্দরবান পাল্পউড বাগান বিভাগের সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পোমরা চেক স্টেশনে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের পর তাকে বান্দরবান বন বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বান্দরবান বন বিভাগের রুমা রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বনজ সম্পদ পাচার-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জে প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময়ে সুফল প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১২-১৩ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পোমরা বিটে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৩০০ একর বন বিভাগের জমি রাবার বাগানের জন্য লিজ দেওয়া হয়। এ সময় ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে রোপণ করা সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। একই সময়ে পোমরা নার্সারি ও রাবার বাগান উন্নয়নের নামে প্রায় ৫০০ একর বনভূমির ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি পোমরা বিট, পোমরা চেক স্টেশন ও পোমরা নার্সারিতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সদর রেঞ্জে বদলি পান।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ২০১২-১৩ সালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গণজাগরণ মঞ্চের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন এবং তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলার চর থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যোগদানের পর তাকে আবারও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সময় একই সার্কেলে দায়িত্ব পালনের পর পুনরায় একই এলাকায় পদায়ন বন বিভাগের প্রচলিত বদলি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও তারা মন্তব্য করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনসংরক্ষক মিহির কুমারের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।









